সুইডেনভিত্তিক ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্সের বিদেশী বিনিয়োগ ফান্ড হিসেবে ২০১৩ সালে রানার অটোমোবাইলসে বিনিয়োগ করেছিল মরিশাসের প্রতিষ্ঠানটি। চলতি মাসের মধ্যে এ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, বর্তমানে ব্রামার ফ্রন্টিয়ারের কাছে রানার অটোমোবাইলসের ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ বা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪ হাজার ৩৪৭টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ শেয়ার বিদ্যমান বাজারদরে ডিএসইর পাবলিক ও ব্লক মার্কেটে বিক্রি করা হবে। ২০১৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রামার ফ্রন্টিয়ার রানার অটোমোবাইলসের ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১টি শেয়ার ১০৫ কোটি টাকায় কিনে নেয়। পরে ২০১৫ সালে দুই দফায় বোনাস শেয়ার ইস্যুর পর ব্রামারের শেয়ারের পরিমাণ বেড়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫২১টিতে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে রানার অটোমোবাইলসে আইপিওতে আসার পর কোম্পানিটিতে ব্রামারের শেয়ারধারণের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ২ কোটি ৮৩ লাখ ৪ হাজার ৩৪৭টিতে দাঁড়ায়। ২০২১-২২ সময়ে কিছু শেয়ার বিক্রি করার পর থেকে ব্রামারের কাছে রানারের ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ বা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪ হাজার ৩৪৭টি শেয়ার ছিল।

সম্প্রতি দেশের বাজারে চীনের বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রানার অটোমোবাইলস। এ লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পর্ষদ বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে একটি মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং চুক্তি (এমএসএমএ) স্বাক্ষর করার অনুমোদন দিয়েছে। এমএসএমএ চুক্তির কিছু আইনি আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি রয়েছে, যা বিওয়াইডির পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাছাড়া এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো মূল্যায়নাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুমোদনের পর এসব তথ্য চূড়ান্তভাবে জানানো হবে বলে ডিএসইর এক চিঠির জবাবে জানিয়েছে রানার অটোমোবাইলস।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৯৬ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের ইপিএস হয়েছে ৯০ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৭০ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৪৯ পয়সায়।

রানার অটোমোবাইলসের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-৩’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।

২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩২। এর ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৫৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে বাকি ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার সর্বশেষ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৪৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।