নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে চলমান টানা লকডাউন ভারতে ইস্পাতের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছর শেষে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সাম্প্রতিক প্রদিবেতনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইস্পাতের চাহিদা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আইএসএ। ওই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছিল, চলতি বছর ভারতে ইস্পাতের সম্মিলিত চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১০ কোটি ৬৭ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
এ প্রতিবেদন যখন প্রকাশিত হয়, তখনো নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেনি বারত। মার্চে দেশটিতে প্রথম কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। ২৪ মার্চ থেকে টানা লখডাউনে যায় দেশটি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে ৩১ মে পর্যন্ত দেশটিতে লকডাউন চলার কথা রয়েছে।
টানা লকডাউনে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির শিল্পোৎপাদন খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বন্ধ রয়েছে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলো। রেল সংযোগ সম্প্রসারণের কাজও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এসব কারণে কমতে শুরু করেছে ইস্পাতের চাহিদা।
এ ধারাবাহিকতায় আইএসএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে ভারতে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত চাহিদা ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা কমবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
আইএসএর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল অর্ণব কুমার হাজরা বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে ইস্পাতের চাহিদায় এত বড় পতন দেখা যায়নি। এটা আগামী দিনগুলোয় ভারতীয় ইস্পাত শিল্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের জন্ম দেবে। বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতেও অনেকটা সময় লাগবে। কেননা মহামারীর বিরুদ্ধে চলমান লড়াই ভারতীয় অর্থনীতিকে আরো শ্লথ করে দিতে পারে বলে এরই মধ্যে পূর্বাভাস মিলেছে।










