মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী মাসগুলোয় ভারতের সূর্যমুখী তেল আমদানি কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম দামের অন্য ভোজ্যতেল আমদানিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ সূর্যমুখী তেল আমদানিকারক। সাধারণত কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর ব্যবহার করে সূর্যমুখী তেল আমদানি করে দেশটি। তবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বাণিজ্য রুটটি এড়িয়ে চলছে শিপিং কোম্পানিগুলো। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতে পণ্যটি সরবরাহে পাড়ি দিতে হচ্ছে লম্বা পথ। এতে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি ব্যয় হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
ভোজ্যতেল ব্রোকারেজ সানবিন গ্রুপের সিইও সন্দিপ বাজোরিয়া বলেন, ‘বাড়তি জাহাজ ভাড়ার কারণে সয়াবিনের তুলনায় সূর্যমুখী তেল আমদানিতে বেশি ব্যয় হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এ ঘটনা ঘটছে।’
তিনি আরো জানান, সয়াবিন তেলের তুলনায় কম দামের কারণে গত কয়েক মাসে ভারত বিপুল পরিমাণে সূর্যমুখী তেল আমদানি করেছে। কিন্তু জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী দিনগুলোয় এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন আমদানিকারকরা।
ডিলাররা জানান, ফেব্রুয়ারিতে ভারতে সরবরাহের জন্য বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের দাম (ব্যয়, বীমা ও ফ্রেইটসহ) পড়ছে ৯৪৩ ডলার। এর বিপরীতে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ৯৩৫ ও পাম অয়েল ৯৩৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
দুই মাস আগেও প্রতি টন সূর্যমুখী তেলের রফতানি মূল্য ছিল ১২০ ডলার, যা সয়াবিন তেলের চেয়ে অনেক কম। এ কারণেই মূলত ব্যবসায়ীরা ওই সময় এর আমদানি বিপুল মাত্রায় বাড়িয়েছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ভারত আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি সূর্যমুখী তেল আমদানি করে। আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৫০ ডলার। একই সময় সয়াবিন তেল আমদানি ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৫০ ডলারে। তবে এটি মাসভিত্তিক গড় আমদানির তুলনায় অনেক কম।
জিজিএন রিসার্চের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ প্যাটেল বলেন, ‘চলতি মাসে ভারতের সূর্যমুখী তেল আমদানি কমে ২ লাখ ২৫ হাজার টনে নামতে পারে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল আমদানি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৩০ হাজার টনে। বাজারদরে কিংবা জাহাজ ভাড়ায় এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোয় সূর্যমুখী তেল আমদানি কমে দুই লাখ টনের নিচে নেমে আসতে পারে।’










