রেকর্ড পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বেড়ে যাচ্ছে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণের খরচ। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে ব্রিটিশ পরিবারগুলোকে। সব মিলিয়ে ব্রিটিশ অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী মন্দায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হয়েছে। আগামীতে আরো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। খবর রয়টার্স।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের শুরুর দিকের পর প্রথম সংকোচনের মুখোমুখি হলো দেশটির অর্থনীতি। সে সময় দেশটি কঠোর কভিডজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে ছিল।

দেশটির অর্থনীতি এখনো প্রাক-কভিড পর্যায়ের নিচে রয়ে গিয়েছে। জি৭ জোটে থাকা একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এখনো কভিডজনিত বিপর্যয় কাটিয়ে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে পারেনি। তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি তিন বছর আগের তুলনায় ছোট রয়ে গিয়েছে।

একটি দেশের জিডিপি যখন টানা দুই প্রান্তিকে সংকোচনের মুখোমুখি হয়, তখন সেটাকে মন্দা হিসেবে অভিহিত করা হয়। বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দায় পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড দুই বছর ধরে চ্যালেঞ্জিং মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশঙ্কা, ১৯২০-এর দশকে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্য প্রথমবারের মতো দীর্ঘতম মন্দার সম্মুখীন হবে এবং বেকারত্ব প্রায় দ্বিগুণ হবে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি মাত্র দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

জেরেমি হান্টের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি একটি চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে ব্রিটিশ অর্থনীতির মৌলিক স্থিতিস্থাপকতা দীর্ঘমেয়াদে আশাবাদের কারণ। তিনি বলেন, আমি কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে নেই যে আগামীতে আরো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে। এজন্য আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আমাদের মূল্যস্ফীতির মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে এবং ঋণ কমাতে হবে। এর বাইরে কোনো উপায় নেই।

তৃতীয় প্রান্তিকে পরিষেবা খাতের কার্যক্রম স্থবির হয়ে গিয়েছে। জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে থাকায় পরিবারগুলো ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। যেখানে শিল্পোৎপাদন সংকুচিত হয়েছে। কারণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং মূল উপকরণের ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। কেবল সেপ্টেম্বরেই অর্থনীতি দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। রানী এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণেও এ সময়ে দেশটির অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

দেশটির শিল্প গ্রুপ কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলপেশ পালেজা বলেন, অতিরিক্ত ব্যাংক ছুটির হিসাব করলেও বোঝা যায় যে অর্থনীতির কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মুদ্রানীতি আরো কঠোর করলে চাপ আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও উচ্চমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াচ্ছে। এ নীতি আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলে দিতে পারে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে আবাসন খাতের কেনাবেচা এবং ভাড়া দশমিক ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। বন্ধকি ঋণে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় রিয়েল এস্টেট খাতের কার্যক্রম নিম্নমুখী রয়েছে।