বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্তো বোক্কা জোর দিয়ে বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর যাত্রায় বিশ্ব ক্রমাগতভাবে অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি আরব নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ডব্লিউইএফের এ নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং শক্তি ও উপকরণ প্রধান আরো জানান, প্রচলিত জ্বালানি থেকে পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এজন্য ট্রিলিয়ন ডলার পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের সরকারকে শুধু তেল ও গ্যাস নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ আগামীতে নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা হবে আকাশচুম্বী।
তিনি জ্বালানি শক্তির টেকসইয়ত্ব বিষয়ে সৌদি আরবের পদক্ষেপ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য একটি রোল মডেল হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যা শুনেছি, দেখেছি ও আলোচনা করেছি, তাতে নিশ্চিতভাবে মনে করি সৌদি আরবকে ঘিরে উচ্চাশার মাত্রা সত্যিই অনেক বেশি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাও অনেক বেশি। সুতরাং, আশা করি, দেশটি বাকি বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ হবে।’
২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের অর্থনীতি প্রায় দ্বিগুণ হবে। বিষয়টি সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। যখন আমরা সম্পদের কথা বলি, তখন আমরা শুধু তেল-গ্যাস বা কয়লার কথা বলি না। আমি পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পর্কেও কথা বলছি, কারণ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ পেতে একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ডব্লিউইএফের এ শীর্ষ কর্মকর্তার মতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সম্পূর্ণভাবে বা শতভাগ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের ধারণাটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। তবে মূল সমস্যাটি প্রচলিত শক্তির উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এর থেকে কার্বন নির্গমনের বিষয়টির সঙ্গে জড়িত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় সৌদির তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের আরব নিউজকে বলেন, ‘শক্তির রূপান্তর ঘটানো তখনই সম্ভব হবে, যখন বিশ্ব সক্ষমতা, নিরাপত্তা, সরবরাহ ও টেকসইয়ত্বের নিশ্চিয়তা দেবে।’
আরব নিউজের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রবার্তো বোক্কা আরো উল্লেখ করেন, কিছু দেশ শক্তি রূপান্তর যাত্রায় পিছিয়ে। তাদের কার্যকর করার জন্য আরো পরিকল্পনার প্রয়োজন এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা। এটি যদি না হয়, তাহলে শক্তি রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।










