কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। মহামারী শেষে কয়েকটি দেশে শুরু হয় যুদ্ধ। পণ্যের দাম কমলেও বর্তমানে তা মহামারীর আগের অবস্থায় ফেরত আসেনি। বিভিন্ন দেশে সরকার ও বেসরকারি খাতগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে উদারহস্তে ঋণ করছে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক আর্থিক খাতে। বুধবার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ গত বছর রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩১৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আইআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী ঋণে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ যোগ হয়েছে, যা মোট ৩১৩ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।"বিশ্বব্যাপী জিডিপির অনুপাতে সরকারগুলোর ঋণ টানা তৃতীয় বছরে কমেছে। শক্তিশালী বাজার অর্থনীতির কারণে এটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী ঋণ ২০২২ সালে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার কমেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে বৈশ্বিক ঋণ ২০২৩ সালে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে।

আইআইএফ জানিয়েছে, প্রায় এক দশক আগে বৈশ্বিক মোট ঋণ ছিল ২১০ ট্রিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মোট ঋণের প্রায় ৫৫ শতাংশ এসেছে উন্নত অর্থনীতির দেশ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি। অন্যদিকে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ঋণ বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।

উন্নত দেশগুলোর মোট ঋণ গত বছর ২০৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট ঋণ ১০৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

একই সময় বৈশ্বিক পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ৫৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আর বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ গত বছর ৮৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে।

আইআইএফ জানিয়েছে, আর্থিক খাতবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের ঋণ ৯৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ৬৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফিচ রেটিংসের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের রেটিং দলের প্রধান জন ফ্রাইডরিচ বলেছেন, ‘উচ্চ সুদে ঋণ নেয়ার কারণে"এ মুহূর্তে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন"লক্ষ করা যাচ্ছে।’

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে চীনের সরকারি ঋণ জিডিপির এক-চতুর্থাংশের সমান বেড়েছে। দেশে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক খাতের ঋণও বেড়েছে। দেশটিতে প্রবৃদ্ধির শ্লথতা, প্রপার্টি খাতের সংকট এবং জনসংখ্যা কমছে। একটি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ঋণ গ্রহণের দিক থেকে ধনী দেশগুলোর স্তরে পৌঁছেছে চীন। এ ঋণ একটি গুরুতর অর্থনৈতিক হুমকিতে পরিণত হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

ফিচ রেটিংসের জন ফ্রাইডরিচ বলেন, ‘‌রেটিং এজেন্সিগুলো এখন চীনা অর্থনীতিরি দুর্বলতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।"আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং প্রপার্টি খাতের সমস্যাগুলোর প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সরকারের সীমিত সাফল্য লক্ষ করছি।’