টানা তিন বছর রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদনের পর অবশেষে উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমের শীতকালীন উৎপাদন প্রাক্কলন ৩৪ শতাংশে নামিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস অ্যান্ড সায়েন্সেস (এবিএআরইএস)। নতুন প্রাক্কলনে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ টনে।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রত্যাশিত ফলন পাবে না দেশটি। এর কারণ হিসেবে এল নিনোর প্রভাবকে দায়ী করেছে এবিএআরইএস। সংস্থাটির মতে, এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার প্যাটার্ন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না থাকায় শীতকালে মাটির আর্দ্রতা কমে গিয়ে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শুষ্ক ও গরম অবস্থা বিরাজ করলে শীতকালীন ফসলের প্রত্যাশিত ফলন আসবে না।
এবিএআরইএস বলেছে, তারা জুনের পূর্বাভাস সংশোধন করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সামান্য বাড়ালেও তা ১০ বছরের গড় ৪ কোটি ৬৪ লাখ টনের কম থাকবে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় ফসলি এলাকায় ফলন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে শীতকালীন শস্যের উৎপাদন গড় স্তরের নিচে নামতে পারে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে ভালো ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের ক্ষতি কিছুটা কমে আসবে।
এবিএআরইএসের মতে, এ বছর গমের উৎপাদন কমে যাবে ৩৬ শতাংশ এবং গত ১০ বছরের গড় উৎপাদন স্তরের চেয়ে ৪ শতাংশ নেমে যাবে। গত বছর যেখানে খাদ্যশস্যটির রেকর্ড উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, এ বছর তা নেমে দাঁড়াবে ২ কোটি ৫৪ লাখ টনে। অস্ট্রেলিয়ায় গমের উৎপাদন কমার খবরটি এমন এক সময় এল যখন আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিল জানাচ্ছে, বৈশ্বিক গমের মজুদ গত নয় বছরের সর্বনিম্নে ঠেকেছে।
এবিএআরইএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত বার্লি উৎপাদন জুনের পূর্বাভাস থেকে সামান্য বেড়েছে। তবে বছরওয়ারি হিসেবে তা ২৬ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ১ কোটি ৫ লাখ টনে। গত ১০ বছরের গড় উৎপাদন বিবেচনায় শস্যটির ফলন কমেছে ৬ শতাংশ।
এবিএআরইএস অনুসারে, ক্যানোলা উৎপাদন পূর্বাভাসও সংশোধন করে ৫২ লাখ টনে বাড়ানো হয়েছে। যদিও শস্যটির উৎপাদন গত বিপণন বছর থেকে ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। তবে এ বছর আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ায় গত ১০ বছরের গড় স্তরের চেয় বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমের শীতকালীন আবাদি জমির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে কমে যাবে। মোট আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখ হেক্টরে। সবচেয়ে বেশি ৬ শতাংশ আবাদি জমির পরিমাণ কমবে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায়।










