জাপানের ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণের ওপর ধার্যকৃত গড় সুদহার টানা সাত মাস বেড়ে জুলাইয়ে দশমিক ৮৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি জাপানের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী মাসগুলোয় বন্ধক ও স্থির হারে করপোরেট ঋণের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
জাপানের প্রধান ব্যাংকগুলো সুদহার নির্ধারণের সময় সাধারণত টোকিও ইন্টারব্যাংক অফারড রেটের (টিআইবিওআর) মতো রেফারেন্স হার ব্যবহার করে থাকে। গত মার্চে বিওজে নেতিবাচক সুদহার উঠিয়ে দিয়েছে। ফলে টিআইবিওআর বাড়ছে। এর প্রভাবে অনির্ধারিত সুদহারে নেয়া ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে।
শহরাঞ্চলের ব্যাংকগুলোর সুদহার চলতি বছরের শুরু থেকে ঊর্ধ্বমুখী। গত মাসে সুদহার দশমিক ৭৬ শতাংশে পৌঁছে, যা ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
এর আগে গত মাসে বিওজে সুদহার বাড়িয়েছে। ফলে প্রধান ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর থেকে সুদহার সমন্বয় হয় এমন ঋণ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদহার বাড়ানোর কথা ভাবছে। এতে এত দিন ধরে স্বল্পমেয়াদে সুদহার বৃদ্ধি সীমিত থাকলেও তা বাড়তে পারে।
সুদহার পরিবর্তনের এমন প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থির সুদহারে ঋণ নিতে উৎসাহিত করছেন ব্যাংকগুলো। তবে ঋণগৃহীতারা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দিকে ঝুঁকলে তখনো গড় সুদহার বাড়তে পারে।
এদিকে গ্রহীতারাও ঋণ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। অর্থনীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টোকিও শোকো রিসার্চের তথ্য বলছে, জাপানি ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশই সুর্নিদিষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রকল্পের জন্য ঋণ নেননি। তারা বলছেন, সুদহার ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লে ঋণ নেয়া বন্ধ করে দেবেন।
জাপানের অনেক রিয়েল স্টেট কোম্পানি উচ্চ ঋণগ্রস্ত। সুদহার সামান্য বাড়লেও তাদের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। কেননা সুদহার বাড়লে তাদের ঋণের পরিশোধ ব্যয় অনেক বাড়বে। একটি ব্যাংকিং সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যয় কমাতে কিছু কোম্পানি স্বল্পমেয়াদে ঋণ নিতে শুরু করেছে। এ ধরনের ঋণের সুদহার সাধারণত কম হয়।
মুদ্রাস্ফীতি হিসেবে সুদহার এখনো ঋণাত্মক প্রবণতায় রয়েছে। জাপানের মূল ভোক্তা মূল্য সূচক ২৮ মাস ধরে বিওজের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশকে ছাড়িয়ে গেছে।










