ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পাদন হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এটি দূর করতে বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস, পাটজাত পণ্য ও রিসাইকেল সুতা রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। 

গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দ্য চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ, পরিচালক একেএম আক্তার হোসেন,  জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, মাহবুবুল হক মিয়া, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আখতার উদ্দিন মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। অন্যদের মধ্যে দূতাবাসের অ্যাটাচে রব্বি ফিরলি হারখা ও ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স সপ্তো রুদিয়ান্তোসহ  চেম্বার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণে পিছিয়ে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া খাদ্য সংরক্ষণ ও হালাল ফুড রফতানিতে বিশ্বে নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পাদিত এগ্রিকালচার সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে। 

রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইন্দোনেশিয়া চট্টগ্রামের মাতারবাড়ীতে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ১০০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন, ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি উভয় দেশের ট্যুরিজম, ম্যানুফ্যাকচারিং, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার এবং রিনিউয়েবল এনার্জি সেক্টরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। 

চট্টগ্রামের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ভৌগোলিক সুবিধা তুলে ধরে চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩ বিলিয়ন ডলার সংরক্ষণ কিংবা প্রক্রিয়াকরণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার বিশ্বব্যাপী হালাল ফুড ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে সুনাম রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার।’ তাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার ধরা ও রফতানিতে ইন্দোনেশীয় ব্যবসায়ীদের একক বা যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে। যার মধ্যে পামঅয়েল, কয়লা, সিমেন্ট ক্লিংকার, পেট্রোলিয়াম প্রডাক্টসহ কৃষি পণ্য আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি পোশাক ও পাটজাত পণ্য রফতানি করা হয়। অথচ বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ওষুধ পণ্য। তিনি প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রফতানিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।