সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে চীন ও অস্ট্রেলিয়া। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা যবের ওপর ৮০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে চীন। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে চীনকে দায়ী করে স্বাধীন তদন্তের বৈশ্বিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এমন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

অস্ট্রেলিয়া থেকে রফতানি হওয়া যবের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে অস্ট্রেলীয় যব আমদানিতে ৮০ শতাংশ হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্ক দিতে হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ শুল্কহার ১৯ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের যব আমদানি করে চীন। ফলে বেইজিংয়ের এমন সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার কৃষিপণ্য রফতানি খাতে বড় একটি ধাক্কা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

গত বছরের একেবারে শেষ দিকে চীনের উহান থেকে নভেল করোনাভাইরাস প্রথম ছড়িয়ে পড়ে। জানুয়ারিতে চীন মহামারী ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস পুরো বিশ্বে ছড়িয়েছে। ডব্লিউএইচও বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের তাণ্ডব এখনো চলছে। আক্রান্ত ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক দেশের সরকার মনে করছে, ভাইরাসটি নিয়ে চীনের কোনো পরীক্ষাগারে গবেষণা চলছিল। সেখান থেকেই ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন ভাবনা থেকে নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে শতাধিক দেশ।

এ উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যদিও চীন বরাবর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তার পরও স্বাধীন তদন্তের বৈশ্বিক উদ্যোগের শাস্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার যবের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধের সূচনা করেছে বেইজিং।