রাশিয়ার বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে গমের রফতানি মূল্য বাড়দির দিকে ছিল। গত সপ্তাহে কৃষিপণ্যটির রফতানি মূল্য আরো বেড়েছে। মূলত রফতাানি আগের তুলনায় শ্লথ হয়ে আসার পরও উৎপাদন কমে আসার সম্ভাবনা থেকে দেশটিতে গমের রফতানি মূল্য বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও এগ্রিমানি।

ফ্রি অন বোর্ড চুক্তিতে সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় উৎপাদিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের রফতামি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ ডলার ৫০ সেন্ট বেড়ে টনপ্রতি গড়ে ২০৪ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সভইকন সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

মস্কোভিত্তিক আরেকটি কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইকেএআর জানিয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার প্রতি টন গমের গড় রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০৬ ডলারে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ৬ ডলার বেশি। একই সময়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা গিয়েছে যবের দামও। সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার যবের রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি গড়ে ১৭১ ডলারে।

সভইকনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার টন গম রফতানি হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে দেশটি থেকে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার টন গম রফতানি হয়েছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাশিয়া থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি কমেছে ২৮ হাজার টন। এর পরও দেশটিতে গমের রফতানি মূল্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে গম উৎপাদন কমার আশঙ্কা। রাশিয়ার কৃষিপ্রধান এলাকা স্টাভরোপল। দক্ষিণাঞ্চলীয় এ এলাকায় উৎপাদিত গমের মান বেশ ভালো। উৎপাদনও হয় প্রচুর। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর এ এলাকায় উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমতে পারে। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে চলতি বছর স্টাভরোপলে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পূর্বাভাস প্রকাশের পর পরই রাশিয়ার বাজারে গমের রফতানিমূল্য বাড়তে শুরু করে। 

এদিকে সভইকনের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৪ জুন সময়ে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টন শস্য রফতানি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে শস্য রফতানি কমেছে ১৪ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে রুশ রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৩ লাখ টন গম রফতানি করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মাঝে গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টন শস্য মজুদ করেছে।