গত বছরের তুলনায় এপ্রিলে টানা সপ্তম মাসের মতো সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানি কমেছে। ইলেকট্রনিক ও নন-ইলেকট্রনিক উভয় পণ্যের রফতানি কমেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অবস্থার উন্নতি হওয়ার আগ পর্যন্ত আরো কয়েক মাস নিম্নমুখী রফতানি পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয় মার্চে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের পর দেশটির তেলবহির্ভূত দেশীয় পণ্য রফতানি বছরওয়ারি কমেছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, যা রয়টার্সের পক্ষ থেকে অর্থনীতিবিদদের দিয়ে জরিপকৃত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ও ব্লুমবার্গের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন পূর্বাভাসের তুলনায়ও বেশি।

দেশটির জন্য অন্যতম প্রধান ধাক্কা ছিল বছরওয়ারি ইলেকট্রনিক পণ্যের শিপমেন্ট ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস। এর শুরুটা হয়েছিল মার্চের রফতানি পরিস্থিতি ২২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাসের মাধ্যমে। সবচেয়ে কমেছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও ডিস্ক মিডিয়া পণ্যের চালান; এগুলো যথাক্রমে ২১ দশমিক ১, ৫০ দশমিক ৩ ও ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচনের সম্মুখীন হয়েছে।

মার্চে ৪ দশমকি ৭ শতাংশ হ্রাসের পর নন-ইলেকট্রনিক পণ্যের রফতানি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। রফতানি সংকোচনের নেতৃত্ব দিয়েছে পেট্রোকেমিক্যাল, প্রাথমিক রাসায়নিক ও খাদ্য তৈরিতে ব্যবহারিত কেমিক্যাল পণ্য।

এ সম্পর্কে ওসিবিসি ব্যাংকের ট্রেজারি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির প্রধান ও মুখ্য অর্থনীতিবিদ সেলেনা লিং বলেছেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাহ্যিক চাহিদার অবস্থা দুর্বল। এটি ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত নন-ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানির গতিকে থামিয়ে রাখার ইঙ্গিত দিতে পারে। ইলেকট্রনিক পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। তাই বিশ্ব ইলেকট্রনিক শিল্পের জন্য ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার অধরা বলে মনে হচ্ছে।’ এমনকি এক বছরের আগের তুলনায় এপ্রিলে ওষুধ রফতানি ১২৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে সমর্থ হলেও তা দিয়ে দেশটি এর ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি মন্দা সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সমর্থ হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০২২ সালের একই মাসের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটির মোট বাণিজ্য কমেছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। মার্চের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন পরিস্থিতিকে আরো গতিশীল করে তোলে। এছাড়া আসিয়ান গন্তব্যসহ সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ১০টি বাজারের মধ্যে সাতটিতে তেলবর্হিভূত দেশীয় পণ্য রফতানি এপ্রিলে ‘ডাবল-ডিজিট’ সংকোচনের সম্মুখীন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্যটির রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৭, ৩৮ দশমিক ৯ ও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে তাইওয়ানে রফতানি কমেছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যন্ত্রপাতি, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ও যন্ত্রাংশের সংকোচনের ধারাবাহিকতায় তেলবর্হিভূত দেশীয় পণ্য রফতানিও কমেছে।