পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের লেনদেন তদন্তের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূলত কোম্পানিটির শেয়ারদরের অস্বাভাবিক গতিবিধির কারণে এ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শ্যামপুর সুগার মিলসের লেনদেন তদন্তের বিষয়টি গতকাল বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত রোববার বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগের পক্ষ থেকে শ্যামপুর সুগার মিলসের লেনদেন তদন্তের জন্য ডিএসইর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৯২ টাকায় ছিল, যা গত ২৬ অক্টোবর বেড়ে ১৫৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ারদরের অস্বাভাবিক গতিবিধির কারণে কোম্পানিটির ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী সময়ের লেনদেনের ওপর তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৬ নভেম্বর দর ২৩৬ টাকায় ওঠে, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অবশ্য এর পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারদর নিম্নমুখী এবং সর্বশেষ গতকাল ১৭৯ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ারদরের পাশাপাশি এ সময়ে কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০ টাকা ৬৮ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ৩০ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২১ টাকা ৮৯ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি শ্যামপুর সুগার মিলসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৩ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৫৩ টাকা ৩ পয়সায়। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১১ টাকা ২১ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল গত ২১ নভেম্বর। 

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার মিলসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫১ শতাংশ সরকার, ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।