এখানে প্রচলিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাস মডেলগুলো আর কার্যকর থাকবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড। ইতালিতে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত গ্লোবাল রিস্ক কনফারেন্সে সম্প্রতি তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। খবর আনাদোলু।
লাগার্ড বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন স্ফুরণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
প্রতিকূল এ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লাগার্ড জানান, বিদ্যমান অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে নমনীয়তা ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রথাগত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের চেয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথাগত ম্যাক্রো-ইকোনমিক মডেলগুলো আর পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে এখন সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো পূর্বনির্ধারিত পথে না হেঁটে প্রতিটি বৈঠকের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
লাগার্ডের মতে, আগের কয়েক দশকের তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি মডেলগুলো বর্তমানের অস্থির ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।
লাগার্ড স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯২০-এর দশকে অভ্যন্তরীণ কম্বাশন ইঞ্জিন ও বিদ্যুতের মতো উদ্ভাবনগুলো প্রযুক্তিগত আশাবাদের জন্ম দিয়েছিল। তবে সে সময়ের প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাও চরম আকার ধারণ করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ বা মহামন্দার দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সে সময়ের কাঠামোগত মিল খুঁজে পাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইসিবি প্রধানের মতে, এখন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগ হলেও ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে খণ্ডিত করছে। তাই অতীতের মতো গৎবাঁধা নীতিতে না গিয়ে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতা এখন অর্থনীতির চাকা সচল রাখার প্রধান অস্ত্র।










