চীনের প্রসাধনী বাজারে মন্থর গতি দেখা গেছে। এট লোরেয়াল, এস্টি লডার ও এলভিএমএইচের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য খারাপ সংবাদ। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো কয়েক বছর থেকে চীনের বাজারে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি বাজার দখল করে আছে। এছাড়া জাপানের শিসেডোর মতো আঞ্চলিক ব্র্যান্ডগুলোও মন্দ সময় পার করছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা জানান, অর্থনৈতিক দুরবস্থা অবশ্যই বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সমস্যা হলো তারা ভোক্তাদের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারেনি। ক্রেতারা কী কিনছেন, সে বিষয়ে তারা আরো বিচক্ষণ হয়ে উঠেছেন। এক্ষেত্রে এগিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। তারা গ্রাহকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য তৈরি করছেন। ফলে তারা স্থানীয় পণ্যগুলোকে উপযুক্ত মনে করছেন।
শ্যানটেকাইল ও ১১১স্কিনসহ বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মতো মাল্টিব্র্যান্ড বিউটি রিটেইলার বনি অ্যান্ড ক্লাইডের প্রধান নির্বাহী উইলিয়াম লাও বলেন, ‘চীনা গ্রাহকরা এখনো যা খরচ করতে আগ্রহী, তা হলো উচ্চ কার্যকারিতা সম্পন্ন পণ্য। আপনি যা দেখছেন তা হলো লাইফস্টাইলের বিলাসিতা ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর একটি ডাউনগ্রেড।’
বোটানি বায়োটেকের সংবেদনশীল স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড ‘উইনোনা’ এমন অবস্থার অন্যতম সুবিধাভোগী। চীনা ব্র্যান্ডটির দাম লোরেয়াল পণ্যের মতোই।
সিএমবি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষকদের প্রক্ষেপণ অনুসারে, চলতি বছর বোটানির আয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ৮২ কোটি ৪০ লাখ হবে। এ আয়ের বেশির ভাগের কৃতিত্ব উইনোনার। বোটানির তুলনায় অন্য বহুজাতিক প্রসাধনী জায়ান্টদের বিক্রি কমে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এভলিন ঝু নামে একজন পেশাজীবী নারী জানান, ব্যয়বহুল প্রসাধনী ব্যবহার তার জন্য এখন অতীতের বিষয়। বর্তমানে তিনি শুধু ত্বকের যত্নের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোয় ব্যয় করেন। তার মতো ব্যয় সংকোচনের দিকে হাঁটছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রসাধনী বাজারের লাখ লাখ গ্রাহক।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংঝোর ৩২ বছর বয়সী এক নারী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা সবাই অনেক পণ্য কিনেছি। আমার বাথরুমের আলমারি পূর্ণ। এটা বলা কঠিন আমার আরো অনেক কিছু দরকার।’
নিউইয়র্কভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান জেফারিজ গ্রুপ এক বিশ্লেষণে জানায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে এলভিএমএইচের প্রসাধনী বিভাগে বিক্রি কমেছে ৮ শতাংশ। একই সময়ে এস্টি লডারের বিক্রি কমেছে ১২ শতাংশ। লডার তার মোট ব্যবসার এক-তৃতীয়াংশের জন্য চীনের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে চীনের বাজারে মন্থর চাহিদার কারণে পুরো বছরের মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়েছে শিসেইডো।
এ বিষয়ে জানতে লোরেয়াল, এস্টি লডার ও শিসেইডোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো মন্তব্য পায়নি রয়টার্স।
বাজার গবেষণা সংস্থা ইউরো মনিটরের তথ্যমতে, এ ফলাফল ২০২২ সালের নিম্ন ভিত্তি থেকে এসেছে। ওই সময় চীনের সম্মিলিত কালার কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার বাজার তার মূল্যের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারিয়েছে। যদিও সংস্থাটি চলতি বছর প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছে। তবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২০২১ সালের ৫ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার আকারের বাজার ফিরে আসবে না বলে জানিয়েছে।
এদিকে বাজারে মন্দার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গ্রাহকের জন্য ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল মূল্যছাড় অফার করছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।
একই সঙ্গে অনলাইনে বার্ষিক একক দিবস উৎসবের মতো কেনাকাটার শীর্ষ ইভেন্টে উপহার প্রদান করে গ্রাহককে আকৃষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকরা জানান, এমন উদ্যোগও খুব বেশি কাজে আসছে না।
স্বাধীন ডাটা ফার্ম সিনটানের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, সব অনলাইন শপিং প্লাটফর্মে প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত যত্নের মোট মার্চেন্ডাইজিং ভলিউম বছরে ৬ শতাংশ কমেছে।










