প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু খাতে শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদদার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশা করছে, হামলার পর নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়লাভের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় এ এসব খাতের জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।

স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ জুলাই) পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে কানে গুলি লাগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। গুলিতে আহত হওয়ার পর ট্রাম্পের বেঁচে থাকাটা রাজনৈতিক বাজিকে বেশ প্রভাবিত করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকস ওয়েজারিং ওয়েবসাইট প্রেডিক্ট আইটিতে ট্রাম্পের নির্বাচনে বিজয়ের চুক্তি সোমবার (১৫ জুলাই) ৬৮ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। শুক্রবারেও এটি ছিল ৬০ সেন্ট। অন্যদিকে নির্বাচনে বাইডেনের বিজয়ের চুক্তি ২৬ সেন্টে ছিল সোমবারে।

এছাড়া কানে গুলি লাগার পর ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ারের দর ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটিও তার স্টক মার্কেট মূল্য ৭৬০ কোটি ডলার বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুটি স্টারবাক্স স্টোরের সঙ্গে কোম্পানির আয় তুলনীয় হওয়া সত্ত্বেও এ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

বেড়েছে ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ার দর। ট্রাম্প মিডিয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বেড়েছে ১২৯ শতাংশ। কারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজি ধরেছেন ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হবেন।

ব্র্যাডেস্কো বিবিআইর ইকুইটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান বেন লেইডলার বলেন, ‘‌এ পরিস্থিতি চূড়ান্ত নির্বাচনের আগে প্রায় চার মাস ধরে চলতে পারে আবার পরিস্থিতির পরিবর্তনও হতে পারে। তবে আপাতত বাজারগুলো ট্রাম্পকে বিজয়ী করার বিষয়ে বাজি ধরছে।’

এদিকে ট্রাম্পের গুলি লাগার পর তাকে প্রকাশ্য সমর্থন দেন ইলোন মাস্ক। এর পর পরই টেসলার শেয়ার বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে আছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। এর মূল্য বেড়েছে ১০ শতাংশ। ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনভিত্তিক গ্লোবাল এবং বিটকয়েন মাইনারস রায়ট প্লাটফর্ম ও ম্যারাথন ডিজিটালের শেয়ারও এক লাফে বেড়েছে ১০ শতাংশ।

ট্রাম্পের নীতিগুলো উচ্চ সরকারি ঋণ ও মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশার কারণে দীর্ঘমেয়াদের মার্কিন বন্ডের চাহিদাও বেড়েছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেঞ্চমার্ক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বন্দুক প্রস্তুতকারী ও গোলাবারুদ স্টক যেমন স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন ব্র্যান্ডস, স্টর্ম রুগার অ্যান্ড কোম্পানি এবং অ্যামো মজুদের ক্ষেত্রে ৭-১৫ শতাংশ বেশি দাম প্রত্যক্ষ করেছে। গণগুলি (মাস শ্যুটিং), নাগরিক অস্থিরতা বা সম্ভাব্য বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে উদ্বেগের মতো ঘটনাগুলো বরাবরই আগ্নেয়াস্ত্র শিল্পের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। কারণ এ ঘটনাগুলো প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ভোক্তার চাহিদা বাড়ায়— এই ভয়ে যে ভবিষ্যতে তাদের প্রাপ্যতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। যে কারণে এ সময়ে মজুদের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়।

আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করলে তার অভিবাসন নীতির অধীনে চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বেসরকারি জেল অপারেটর জিও গ্রুপ ও কোরসিভিকের স্টক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

তবে কমেছে ক্লিন এনার্জি স্টক। কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্প বাইডেনের জলবায়ু নীতিগুলো উল্টে দেবেন।