বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বুন্দেসট্যাগের একটি উচ্চ পর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তফা কামাল। এ সময় জার্মান বিনিয়োগকারীদের এমআইইজেডে আরো বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এমজিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

সংসদ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) গেরল্ড অটেন, ইয়োহান সাটহফ ও উরসুলা শাওস এবং জার্মান বুন্দেসট্যাগ প্রশাসনের সহায়ক কর্মকর্তা আনিয়া কাটেরিনা এলিজাবেথ বিনার্ট ও দোভাষী ম্যাক্স ডরফ্লার। তাদের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান ফেডারেল রিপাবলিকের রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎস; ইকোনমিক অ্যাটাশে অলগা নভিকোভ ভিনেন; হেড অব পলিটিক্যাল, প্রেস অ্যান্ড কালচার মনিকা রয়টার; পলিটিক্যাল অ্যান্ড প্রেস অফিসার মিফতাহুল জান্নাত এবং ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরাব বিন তারেক।

পরিদর্শনকালে জার্মান প্রতিনিধি দলকে এমআইইজেডের বিভিন্ন সুবিধা ঘুরিয়ে দেখান শিল্প গ্রুপটির সদস্যরা। বিশেষত বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে অবস্থিত জার্মান মালিকানাধীন দুটি কারখানা—সিএইচটি বাংলাদেশ লিমিটেড ও সিগওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় এমআইইজেডের অধিকাংশ কারখানায় জার্মান মেশিনারি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় বলেও জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে জার্মান সংসদ সদস্য নিকলাস কাপ বলেন, ‘এমআইইজেডে জার্মান শিল্প ও প্রযুক্তির এ শক্তিশালী উপস্থিতি দেখে আমি আনন্দিত। এ ধরনের পরিদর্শন জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে পুনর্নিশ্চিত করে। আগামীতে এ সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও এমডি মোস্তফা কামাল প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে কয়েক দশকের সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ক্রমবর্ধমান উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমআইইজেড বাংলাদেশের সর্বাধুনিক বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে।’ জার্মান বিনিয়োগকারীদের এখানে আরো বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এমআইইজেড ছাড়াও এমজিআই বর্তমানে কুমিল্লা ইকোনমিক জোন ও তিতাস ইকোনমিক জোন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করছে। এসব অঞ্চলে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, জাপান, ভারত, চীন, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন করেছে।