ব্রিটিশ কর্মীদের অন্তত দুই হাজার পাউন্ড বার্ষিক বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লয়েডস ব্যাংক। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ ব্যাংকটি। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
বছরের শেষ দিকে এসে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। যখন দুই অংকের মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।
লয়েডস কর্মীদের বার্ষিক বেতন অন্তত ২ হাজার পাউন্ড বা ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এ বেতন বাড়ানোর পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত। ব্যাংকটি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নতুন ন্যূনতম পূর্ণাঙ্গ সময়ের বেতন ২১ হাজার ২০০ পাউন্ডে উন্নীত করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, ব্যাংকের একটি ভাতা মূল বেতনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ন্যূনতম বেতন দাঁড়াবে ২২ হাজার পাউন্ডে। তিনি যোগ করেন, ইউনিয়ন সদস্যদের অনুমোদন পেলে বেতন প্রস্তাবের শর্তাবলি সব লয়েডস কর্মীর জন্য প্রযোজ্য হবে।
বেতনের প্রস্তাবটি নিম্ন বেতনের গ্রেডে ৪৩ হাজার কর্মীর জন্য ৮-১৩ শতাংশ বৃদ্ধির সমতুল্য। এর মধ্যে কিছু কর্মীর বোনাসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার পরও প্রস্তাবটি উচ্চতর বেতন গ্রেডের অনেক লয়েডস কর্মীর ১০ দশমিক ১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম।
শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইট জানিয়েছে, তারা সদস্যদের অভূতপূর্ব এ প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবটিতে নিম্ন বেতন গ্রেডের কর্মীদের উচ্চতর পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ২ হাজার পাউন্ড বেতন বাড়ানোর অর্থ হলো নিম্ন বেতন গ্রেডের কর্মীদের গড়ে ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাওয়া। এটি মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও উচ্চতর গ্রেডের কর্মীদের বেতন বাড়বে ৪ শতাংশ।
ইউনাইটের জাতীয় কর্মকর্তা ক্যারেন ইভান্স বলেন, লয়েডস ব্যাংকের বেতনের এ প্রস্তাব কর্মীদের জন্য জয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
লয়েডস হলো যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্যাংক, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে কর্মীদের জীবনযাত্রার বর্ধিত খরচ মোকাবেলার জন্য একটি অনির্ধারিত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সব প্রতিষ্ঠানই যে বেতন বাড়ানো নিয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পেরেছে তা নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখনো ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। ইউনিয়নগুলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে বেতন বাড়ানোর দাবি জানালেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা মেনে নেয়নি। যেমন বেতনের শর্তাবলি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ধর্মঘটের পরিকল্পনা করেছে ব্রিটিশ বহুজাতিক ডাক পরিষেবা ও কুরিয়ার কোম্পানি রয়্যাল মেইল।










