আগামী বছরগুলোয় গমের আটার বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং অর্গানিক আটার চাহিদা বাড়বে। কভিড-১৯ মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক প্রধান খাদ্যশস্যে কেমন প্রভাব পড়বে, এ নিয়ে রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘হুইট ফ্লাওয়ার মার্কেট ফোরকাস্ট টু ২০২৭-কভিড ১৯ ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড গ্লোভাল অ্যানালাইসিস বাই প্রডাক্ট টাইপ; অ্যাপ্লিকেশন; এন্ড ইউজার; ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল, অ্যান্ড জিওগ্রাফি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আটার বাজার ছিল ১৮ হাজার ১৩৭ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ২০২৭ সালে এ বাজার দাঁড়াবে ২১ হাজার ৯৯৯ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ডলারে। ২০২০-২৭ সালে আটা উৎপাদন ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দ্রুত ও সহজলভ্য খাবারের চাহিদা বৃদ্ধিতে গত কয়েক বছরে আটার বাজার বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে। বেকারি পণ্য, স্ন্যাকস, নুডলস ও পাস্তার মতো পণ্যের জন্যও আটার বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। গমে প্রাকৃতিকভাবেই গ্লাটেন উপাদান সর্বোচ্চ আকারে থাকে, যা বেকড গুডস বানাতে সহায়তা করে। বিভিন্ন প্রজাতির গমে বিভিন্ন পরিমাণে গ্লাটেন থাকে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ, স্থূলতা ঠেকানো এবং রক্তে চিনির মান নিয়ন্ত্রণে আটার ভূমিকা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া আটায় উচ্চপুষ্টিকর আঁশ রয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে এতে ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই রয়েছে। এস্ট্রোজেনের মেটাবলিক হার চাঙ্গা করার মাধ্যমে আটা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। পুষ্টি চাহিদা পূরণ, ত্বকের সুরক্ষা এবং শরীরের সার্বিক কার্যক্রম বজায় রাখতে আটা ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডায়বেটিস, ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের কারণে মানুষের মধ্যে জীবনযাপন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আটার বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
আগামী বছরগুলোতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ আটা উৎপাদন হতে পারে। প্রাত্যহিক প্রায় সব খাবারের মধ্যে আটা-ময়দার উপস্থিতির কারণে বর্তমানেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় আটার বাজার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। বিশ্বের শীর্ষ গম উৎপাদক দেশ চীন ও ভারত। ২০১৯ সালে বিশ্বের শীর্ষ গম উৎপাদক দেশ ছিল চীন এবং ২০২০-২৭ মৌসুমেও নেতৃত্বে থাকবে বিশ্বের বৃহত্তম এ বাজার। অস্ট্রেলিয়া, চীন ও ভারতের মানুষের ক্রমবর্ধমান ব্যস্ত জীবনের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের স্ন্যাকস, নুডলস, পাস্তার মতো খাবারের চাহিদা বাড়ছে। এসব খাদ্যের প্রধান উপকরণ আটা-ময়দা।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কনভেনিয়েন্স ফুডের চাহিদা বৃদ্ধিতে আটার বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে। এছাড়া রিটেইল আউটলেট, সুপারমার্কেটগুলোও কনভেনিয়েন্স ফুড সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। নগরায়ন বৃদ্ধিতে আধুনিক খাবারদাবারে কনভেনিয়েন্স ফুডের চাহিদা বেড়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়ে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নেয়া লকডাউন, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের কারণে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার কারণে আটা উৎপাদকরা বড় আকারের লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। মহামারীর কারণে বিভিন্ন বড় বড় অনুষ্ঠান বাতিল, অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় খাদ্য ও পানীয় শিল্পের সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।










