ইতিহাদ এয়ারওয়েজের টেকসই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তাদের মূল ব্যবসায়িক বাজার ও পর্যটনের সঙ্গে আবুধাবির সম্পর্ক জোরদার করতে নিজেদের রুট নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করছে। এয়ারলাইনসটি নতুন গন্তব্য, ফ্লাইটের পরিমাণ বাড়ানো ও সময়মতো ফ্লাইট প্রস্থানের ব্যবস্থাসহ শীতকালীন ফ্লাইটের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
আগামী বছর জানুয়ারিতে এয়ারলাইনসটি ভারতের কোঝিকোড় ও তিরুবনন্তপুরমে দুটি নতুন রুট চালু করবে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ইউরোপ, এশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি নতুন রুট ঘোষণা করেছে ইতিহাদ। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনোয়ালদো নেভেস আবুধাবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে এয়ালাইনস নেটওয়ার্কের ভূমিকা তুলে ধরেন। শীতকালীন ফ্লাইটের সময়সূচির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে নতুন সংযুক্ত রুটগুলো চালু করা হবে। যাত্রী চাহিদা পূরণে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজ আবার চালু করছে। ২০২২ সালের জুনের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে জুনে বিশ্বব্যাপী যাত্রী পরিবহন কভিড-১৯ স্তরের ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এয়ারলাইনসটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যাত্রীসংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়ে তিন কোটিতে উন্নীত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এয়ারলাইনসের বহর দ্বিগুণ করা।
চীন, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সংযোগের ওপর নজর রেখে ইতিহাদ আগামী দশকে ইউরোপ ও পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে তার আবুধাবি হাবের ভূমিকাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানিয়েছে, ২০২২ সালের জুনের তুলনায় আন্তর্জাতিক ট্র্যাফিক ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে এভিয়েশন বাজারে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা প্রায় কভিড-১৯-পূর্ববর্তী অবস্থায় পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক ট্র্যাফিক ২০২২ সালের ছয় মাসের তুলনায় ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন রুট চালুর পাশাপাশি ইতিহাদ এয়ারওয়েজ চেন্নাই, ইসলামাবাদ, কোচি, মাদ্রিদ, মিলান, মিউনিখ, রোম ও ফুকেট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়েছে। এদিকে কায়রো, কলম্বো ও মালদ্বীপেও অতিরিক্ত ফ্লাইট পাওয়া যাবে। আবুধাবি থেকে স্থানীয় সময় বেলা ২টায় রওনা হওয়ার জন্য আপডেট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা তাদের চেকআউটের আগ পর্যন্ত আবুধাবির হোটেল ও আকর্ষণীয় স্থানগুলো উপভোগ করতে পারবে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ অগ্রাধিকার দেয়ার কারণ আবুধাবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়া।’ উন্নত পয়েন্ট টু পয়েন্ট সংযোগ আবুধাবিকে উপকৃত করবে। পাশাপাশি ব্যবসা ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আমিরাতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। এয়ারলাইনসটি আরো জানায়, পুনর্গঠিত নেটওয়ার্ক চালুর মাধ্যমে ইতিহাদ প্রবৃদ্ধি ও সংযোগের একটি নতুন জগতে প্রবেশ করছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নেভেস গত মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে জানান, আবুধাবিতে নতুন পরিকল্পিত বিমানবন্দর টার্মিনালের সহায়তায় ইতিহাদ এয়ারওয়েজের যাত্রীসংখ্যা তিন গুণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উড়োজাহারের বহর দ্বিগুণ করে ১৫০টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।










