ডিজিটাল ডিভাইস, টেকনোলজিতে নারীর প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে। নারীরা
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেগুলো
পুরুষদের তৈরি এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। ডাটা অ্যানালিস্ট
থেকে শুরু করে ডিজিটাল ডিভাইস ও টেকনোলজিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী
২৯তম ইউএস ট্রেড শোতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন: এআই যুগে নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক
সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ওরাকল
লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের
(অ্যামচেম) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রুবাবা দৌলা, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জু-উন নাহার চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার
রাশনা ইমাম। সেমিনারটির মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের
ইকোনমিক অফিসার অ্যামি ক্যাস।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আমাদের চারপাশের পরিবেশ নারীবান্ধব
না। টয়লেটের মতো ছোট বিষয় নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। কারণ এগুলো নারীদের ব্যবহার উপযোগী
না। ডে কেয়ার সেন্টার নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। আর নারীদের যৌন হয়রানি শুধু রাস্তাঘাট,
স্কুল-কলেজেই নয় সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গাতেও আছে। সিঙ্গেল আইনজীবীদের যৌন হয়রানির
শিকার হতে হয় বেশি। যেহেতু আমাদের কর্মঘণ্টাও ঠিক নেই। রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। যৌন
হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশি। ডিজিটাল ডিভাইস, টেকনোলজিতে নারীদের প্রবেশাধিকার
বাড়াতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে অভিযোগের সেল থাকা উচিত। পুরুষতান্ত্রিক
চিন্তা থেকেও আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
রুবাবা দৌলা বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা যে ডাটা ব্যবহার করি
তা পুরুষদের দেয়া। যা অলরেডি বায়াসড। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এক্ষেত্রে আমাদের
হেল্প করতে পারে। নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রুট লেভেলে একবারে স্কুলে
থেকেই নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। তারা যেন পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ারেও
পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ সার্কেল
যদি ঠিক থাকে তাহলে ধীরে ধীরে নারীদের সম অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তবে আমি ২০ বছর আগে
নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে নারীদের যে অবস্থান দেখেছি এখন সেটির পরিবর্তন হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ প্রদর্শনী আগামী শনিবার (১১ মে) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল
১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের ট্রেড শোতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪টি প্রতিষ্ঠান
অংশ নিচ্ছে। ১৯৯২ সাল থেকে এ ট্রেড শো শুরু হয়। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের
বাৎসরিক বাণিজ্য প্রায় এক হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের
বিনিয়োগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) ১৯ শতাংশই
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।










