পর্যটন ও বিনোদন খাতে বড় পরিসরে নতুন অবকাঠামো গড়ে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও রাস আল খাইমাহতে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে শত কোটি ডলার। এর মধ্যে আবুধাবির ইয়াস আইল্যান্ডে ১৭০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ‘স্ফিয়ার আবুধাবি’। গতকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এসব তথ্য জানিয়েছে অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
ইয়াস আইল্যান্ডকে গত মে মাসে স্ফিয়ার আবুধাবির জন্য নির্ধারণ করা হয়। ইয়াস মল ও সি-ওয়ার্ল্ড আবুধাবির মাঝামাঝি এলাকায় এটি নির্মাণ করা হবে।
ইয়াস আইল্যান্ডের বিকাশেও বড় বিনিয়োগ করছে আবুধাবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিরাল। আগামী পাঁচ বছর দ্বীপটিতে ১ হাজার ২০০ কোটি দিরহাম বা ৩২৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ অর্থে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান আকর্ষণগুলোর সম্প্রসারণ করা হবে। থিম পার্কগুলোয় নতুন রাইড ও বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতাও যুক্ত হবে। এসব উদ্যোগ আবুধাবি ট্যুরিজম স্ট্র্যাটেজি ২০৩০-এর অংশ।
দুবাইয়েও তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। গত ফেব্রুয়ারিতে আল লায়ান ওসিস প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রায় ১০ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হবে এ পরিবেশ ও বিনোদন কেন্দ্র। এর ২ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটারের বেশি জায়গাজুড়ে থাকবে একটি লেক।
প্রকল্পে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর পথ, পরিবার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা, উন্মুক্ত সিনেমা হল ও ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে ১০০টি ক্যারাভান রাখার সুবিধাও থাকবে। পাশাপাশি থাকবে খুচরা বিক্রয় ও বিনোদন কেন্দ্র।
শারজাহর খোরফাক্কানেও পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ২০২৬ সালে সেখানে আবু আল কাইজান মেরিন ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ৭০ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি হবে প্রকল্পটি। ঐতিহ্যবাহী উপকূলীয় গ্রামের আদল ও ইসলামী স্থাপত্যের সমন্বয়ে এর নকশা করা হয়েছে।
প্রকল্পে থাকবে ছোট প্রাকৃতিক বন্দর, বুলেভার্ড, সৈকত, সবুজ এলাকা, হোটেল, বাণিজ্যিক ও অফিস ভবন, আবাসিক ইউনিট ও মসজিদ। আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
রাস আল খাইমাহও পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। সেখানে আল রামস ওয়াটারফ্রন্ট ও আল রামস বুলেভার্ড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াটারফ্রন্টে হাঁটা, সাইকেল চালানো ও জগিংয়ের আলাদা পথ থাকবে। পাশাপাশি থাকবে পার্কিং, সবুজ এলাকা, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত জায়গা।
এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন বিনোদন ও অবকাশের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে ইউএই। দেশটির বিভিন্ন আমিরাতে পর্যটন ও অবকাশকেন্দ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণও এ কারণে বাড়ছে।










