রফতানির লক্ষ্যে পোশাক প্রস্তুত করতে স্থানীয় রফতানিমুখী মিল থেকে সুতা ও কাপড় কিনেছে একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই সব কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হওয়া পোশাকপণ্য রফতানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আমদানি নিশ্চিত হয়ে পশ্চিমা ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পোশাকের দামও পরিশোধ করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় রফতানি করা পোশাকের দাম পেয়েছে রফতানিকারক কারখানা। তবে ওই পোশাকের সুতা ও কাপড় সরবরাহ করে প্রচ্ছন্ন বা পরোক্ষ রফতানিকারক মিল কাঁচামালের দাম পায়নি।

সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্র অনুযায়ী, পোশাক রফতানিকারক কারখানার সুতা ও কাপড়ের দাম পরিশোধে কালক্ষেপণের ঘটনা কম-বেশি ঘটে থাকে। কিন্তু ২০২২ সালের মধ্যভাগ থেকে এ সমস্যা বাড়তে শুরু করে। এখন আরো তীব্র হয়েছে। সংগঠন প্রতিনিধিদের অভিযোগ, ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী পণ্য রফতানি বাবদ অর্থ পরিশোধ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কাঁচামাল সরবরাহকারী ব্যাংকে অর্থ পরিশোধ হওয়ার কথা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই। কিন্তু পোশাক রফতানিকারকের সঙ্গে যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কাঁচামাল সরবরাহকারী মিলের ব্যাংকে অর্থ পরিশোধ করছে না।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ মাস বা দেড় বছরেরও বেশি সময়ে রফতানি বাবদ অর্থ প্রাপ্তির পরও পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক থেকে কাঁচামাল সরবরাহকারী ব্যাংককে অর্থ পরিশোধ না করার বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। এ সময়ে সরবরাহ করা কাঁচামালের দাম বাবদ সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে রফতানিমুখী ৩৭৬টি পোশাক কারখানা ৪ কোটি ৭১ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৩ ডলার অর্থ পরিশোধ করেনি। ২০ মাসের গড় বিনিময় মূল্য ১১০ ধরে বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫১৮ কোটি ৯০ লাখ ৬ হাজার ১৩৩ টাকা।  এসব পোশাক কারখানা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রয়েছে ১৭টি। কাঁচামাল সরবরাহকারী ব্যাংক রয়েছে ৪-৫টি।

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অর্থ পরিশোধের কালক্ষেপণ সমস্যাটি এখনো বিরাজমান। ৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বরাবর পাঠানো বিটিএমএর এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি বণিক বার্তার কাছে রয়েছে। যার অনুলিপি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের পরিচালক আবু হেনা হুমায়ুন কবির বরাবর দেয়া হয়েছে। 

চিঠির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখার ইস্যু করা দুটি এলসি বা ঋণপত্রের বিপরীতে সরবরাহকৃত কাপড়ের মূল্য পরিশোধ না করা প্রসঙ্গে।

বিটিএমএ চিঠিতে জানিয়েছে, সমিতির সদস্য মিল সালেক টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বিটিএমএকে অবহিত করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে মেসার্স শার্ট অ্যান্ড জ্যাকেট জোন লিমিটেডের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ প্রসঙ্গে আরো অবহিত করেছে যে সালেক টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখা কর্তৃক ইস্যু করা দুটি ব্যাক টু ব্যাক এলসি ৯৭ হাজার ৫৮ ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯০০ ডলার মূল্যের কাপড় মেসার্স শার্ট অ্যান্ড জ্যাকেট জোন লিমিটেডকে সরবরাহ করে। মিলটি আরো জানায় যে এলসি প্রাপ্তির পর তারা রফতানি আদেশ ও এলসির সব শর্তানুযায়ী ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক মানসম্পন্ন কাপড় সরবরাহ করে এবং তা ক্রেতা কর্তৃক সিল ও স্বাক্ষর প্রদান করে গৃহীত হয়।

পরবর্তী সময়ে সালেক টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড তাদের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সেনাকল্যাণ ভবন শাখার মাধ্যমে ডকুমেন্টস নেগোশিয়েট (নথি বোঝাপড়া) করে ওই এলসির মূল্য পরিশোধের নিমিত্তে ম্যাচুরিটি ডেট প্রাপ্তির জন্য এলসি খোলা ব্যাংক দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখায় পাঠানো ব্যাংক শাখা থেকে দুটি এলসির বিপরীতে অর্থ পরিশোধের তারিখ প্রদান করে। কিন্তু সেই তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পরও অদ্যাবধি ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি, যা ব্যাংক নীতিমালার ব্যত্যয় বলে আমরা মনে করি।