শ্রমিক ধর্মঘটের মুখে আর্জেন্টিনার শস্য রফতানি খাত বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ধর্মঘটের পর থেকে কমতে শুরু করেছে রফতানির পরিমাণ। বন্দর ও মেরিটাইম অ্যাক্টিভিটিস চেম্বারের প্রধান জানান, বন্দরের শ্রমিকদের জন্য করোনাভাইরাস টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এতে বন্ধ হয়ে গেছে রফতানি কার্যক্রম। খবর রয়টার্স।

এক বিবৃতিতে বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, শ্রমিকদের জন্য কভিড-১৯ টিকার সরবরাহ কম থাকায় তারা এ ধর্মঘট শুরু করেন। ধর্মঘটের পর বুধবার থেকে বন্দর দিয়ে শস্য রফতানি স্থবির হয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বন্দরের ঘাটে যেসব শ্রমিক শস্যবাহী জাহাজগুলোকে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন তারা এ ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ছোট নৌযানগুলোর ক্যাপ্টেন ও নাবিক, যারা কার্গো জাহাজগুলোকে বন্দরে ভিড়তে ও ছেড়ে যেতে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন তারাও ধর্মঘটে অংশ নেন।

শ্রমিকপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার ধর্মঘট শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের দাবি আদায়ে আর্জেন্টিনার সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে তারা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সিএপিওয়াইএম চেম্বারের মহাব্যবস্থাপক গ্যালিরমো ওয়েইড বলেন, বন্দরের সব ধরনের জাহাজীকরণ বন্ধ রয়েছে।

আর্জেন্টিনা গৃহপালিত পশুখাদ্য সয়ামিল রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। দেশটি ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি সয়ামিল রফতানি করে থাকে। ভুট্টা সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটি। এছাড়া প্রধান গম রফতানিকারক দেশও আর্জেন্টিনা। দেশটি রোসারিও বন্দরের মাধ্যমে বেশির ভাগ কৃষিপণ্য রফতানি করে থাকে। ৮০ শতাংশ কৃষিপণ্যই এ বন্দরে জাহাজীকরণ হয়। তবে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বন্দরটি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের রফতানি কার্যক্রম।

গ্যালিরমো ওয়েইড বলেন, মঙ্গলবার রোসারিও বন্দরে সাতটি জাহাজে পণ্যবোঝাই করা হয়। এসব জাহাজ রফতানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ধর্মঘটরত শ্রমিকরা জাহাজগুলোকে বন্দর ছেড়ে যেতে দেননি। তিনি আরো বলেন, পারানা নদীর পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। ফলে ধর্মঘট শেষেও এসব জাহাজ সহজে বন্দর ছেড়ে যেতে পারবে না।

শ্রমিক ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দরের শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। কিন্তু এসব শ্রমিকের জন্য পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বন্দরের চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।