বাংলাদেশ বা বিশ্বের কোনো আইনে সিন্ডিকেট শব্দ নেই। দেশের বাজার ব্যবস্থায় যে ধারণার সিন্ডিকেট আছে বলে মনে করা হয়, তা ঠিক নয়। সিন্ডিকেটের পরিবর্তে কার্টেল শব্দ ব্যবহার করা উচিত। কিছু খাতে সিন্ডিকেট থাকা সম্ভব নয়। এর মধ্যে কৃষি খাত একটি। বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অগণিত মানুষ কাজ করে। এ কারণে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট বা বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। গতকাল ডেইলি স্টার সেন্টারে বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (আইপি) ফোরামের আয়োজনে দ্রব্যমূল্য, বাজার ব্যবস্থাপনা ও প্রতিযোগিতা শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও আইপি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ্ এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলার সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিটি মামলাই হয়েছে সিন্ডিকেট বা যোগসাজশের অভিযোগে। একজনে যোগসাজশ করা যায় না। প্রতিটি যোগসাজশের মামলাই হয়েছে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এখানে আইনের ব্যত্যয় রয়েছে। তাদের প্রায় সব মামলার রায়ে সমস্যা আছে। নির্ধারিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চাই না। কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে।’



আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিআইআরডিএপি) পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ‘দাম বাড়লেই সেটাকে সিন্ডিকেট বলা উচিত না। এর সঙ্গে আরো অনেক কারণ দায়ী থাকতে পারে। দাম স্তর বৃদ্ধির জন্য সরকারের অকার্যকর নীতির দায়ও কম না। শুল্ক কমানোর মতো অস্থায়ী নীতি বাজারের আরো ক্ষতি করে। বছরে কোন পণ্য কতটুকু লাগবে, তার যথাযথ তথ্য অনুযায়ী যখন অন্য দেশে দাম কম থাকবে, সে সময় আমদানি করতে হবে। তাহলে তা যথাযথ হবে।’

সিন্ডিকেট নেই এমন কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ‘আজকের আলোচনায় দ্রব্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনার চেয়ে প্রতিযোগিতা আইনের বিষয়ে আলোচনা বেশি হয়েছে। কৃষক এখন কৃষিতে নেই। দেশে কৃষির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, কৃষকের কোনো উন্নতি হয়নি। গ্রামীণ কৃষকও যে বাজারের বড় অংশ, তা উপেক্ষিত। কৃষক ধান উৎপাদন করলেও তার গোলায় এখন ধান থাকছে না। প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে লিজ নিয়ে জমি করেন। কিন্তু প্রণোদনার সময় তারা সে সুবিধা পান না। মালিকরা প্রণোদনার অর্থ পান। মূল কৃষক উৎপাদন খরচ ওঠাতে মাঠ থেকেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোম্পানিগুলো ভেজাল সুগন্ধি চাল বাজারজাত করছে, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই, জবাবদিহি নেই। এসব নিয়ে কেউ ভাবছে না। সিন্ডিকেটের মতো শব্দের ব্যাখ্যায় আটকে না থেকে বাজারের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।’



গোলটেবিল আলোচনায় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক মো. খালেদ আবু নাসের এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসনুভা শেলি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আইপি ফোরামের প্রধান নির্বাহী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মনজুরুর রহমান।