সোনালি রঙের ছোট ট্রফিটি হাতে পাওয়া যেকোনো অভিনয়শিল্পী বা নির্মাতার কাছে আজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, আক্ষরিক অর্থে এ ট্রফির আর্থিক মূল্য কত? অথবা পুরস্কারটি চাইলেই বাজারে বিক্রি করা সম্ভব কিনা।
ট্রফির নির্মাণ ও খরচ
দেখতে পুরোপুরি সোনার মনে হলেও অস্কারের ট্রফিটি আসলে ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি। এর ওপর থাকে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ। ৮ দশমিক ৫ পাউন্ড ওজনের এবং ১৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি স্ট্যাচু তৈরি করতে সময়ভেদে প্রায় ৪০০ থেকে ১ হাজার ডলার খরচ হয়। প্রতি বছর নিউইয়র্কের ‘ইউএপি পোলিচ ট্যালিক্স’ নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন মাস সময় নিয়ে ৫০টি অস্কার ট্রফি তৈরি করে। তুলনামূলকভাবে একটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৮০০ ডলার।
মাত্র ১ ডলারে বিক্রির নিয়ম
অস্কার জয়ের সম্মান অমূল্য হলেও ট্রফিটি বিক্রির ক্ষেত্রে রয়েছে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের কঠোর নিয়ম। ১৯৫১ সালে প্রবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অস্কার বিজয়ী বা তাদের উত্তরাধিকারী যদি ট্রফিটি বিক্রি বা হাতবদল করতে চান, তবে তাকে সবার আগে একাডেমির কাছে তা বিক্রির প্রস্তাব দিতে হবে। আর একাডেমি ট্রফিটি কেনার জন্য মূল্য নির্ধারণ করেছে মাত্র ১ ডলার। একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কার বিজয়ীরা অস্কার স্ট্যাচু বিক্রি বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করতে পারবেন না, যদি না তারা প্রথমে একাডেমির কাছে এটি মাত্র ১ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেন।"নিয়মটি বিজয়ীর উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। যদি এ শর্তে একাডেমি ট্রফিটি কিনতে রাজি না হয়, কেবল তখনই তা উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকে।
ব্যতিক্রমী এক আইনি লড়াই
তবে ইতিহাসে এ নিয়মের ব্যতিক্রমও ঘটেছে। ১৯৪১ সালে ‘সিটিজেন কেইন’ চলচ্চিত্রের জন্য অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে বিভাগে অস্কার জিতেছিলেন অরসন ওয়েলস। ২০০৪ সালে তার মেয়ে বিয়াট্রিস ওয়েলসকে বাবার জেতা সেই অস্কারটি বিক্রির অনুমতি দেন মার্কিন আদালত। প্রকৃতপক্ষে ১৯৫১ সালের আগে যারা অস্কার জিতেছিলেন তাদের ক্ষেত্রে একাডেমির এ ‘রাইট-অব-ফার্স্ট-রিফিউসাল’ বা ১ ডলারে কেনার নিয়মটি কার্যকর ছিল না। খবর ইনিউজ










