মূল্যস্ফীতিকে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হলেও জাপানি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য তা আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইতে লসন কনভিনিয়েট স্টোর অপারেটর শেয়ারের মূল্য সাড়ে চার বছরের সর্বোচ্চে। মে মাস পর্যন্ত প্রকাশিত রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৭ হাজার ৩২০ ইয়েনে পৌঁছেছে। এ সময়ের মধ্যে তিন মাসের নিট মুনাফা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। ব্যতিক্রমী এ পারফরম্যান্সে বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা বিস্মিত হয়েছেন। দেশটির খুচরা বিক্রেতারা প্রত্যাশার চেয়ে ব্যয়গুলো আরো ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
লসন কনভিনিয়েট স্টোর অপারেটর এর আগে ২০২২ সালে তাদের জনপ্রিয় চিকেন নাগেটগুলোয় ১০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিকভাবে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পণ্যটি ১৯৮৬ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে ৩৬ বছর ধরে ২০০ ইয়েন (প্রায় ১ দশমিক ৯০ ডলার) মূল্যে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু মূল্য বাড়ানোর পরও পণ্যটির বিক্রি কমেনি।
খুচরা বিক্রেতাদের দ্বারা মূল্যের চাপের জন্য ব্যাংক অব জাপান আগামী সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সংশোধন করতে পারে। খুচরা বিক্রেতাদের উপার্জনের বৃদ্ধি এ বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের ভোক্তারা উচ্চ মূল্যের ক্ষেত্রে এখনো সহনশীল অবস্থানে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা এ ইতিবাচক ফলাফলে অবাক হননি। মহামারী চলাকালীন অনেক খুচরা বিক্রেতা কৌশলগতভাবে নির্দিষ্ট ব্যয় কমিয়েছিলেন, ফলে বিক্রয় পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা মুনাফা বৃদ্ধির আশা করেছিলেন। যদিও বাজারের জন্য এ বৃদ্ধির পরিমাণ সঠিকভাবে আগের থেকে ধারণা করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। উন্নত পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষকরা ক্রমাগত লসনের ওপর তাদের পূর্বাভাসে মূল্যের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে চলেছেন। উপরন্তু খুচরা খাতের জন্য আয়ের পূর্বাভাসে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে।
সেবা খাতের শ্রমিকদের ওপর করা সরকারি জরিপে দেখা যায় টানা পাঁচ মাসের উন্নতির পর দুই মাসে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শিথিল হয়েছে। সামগ্রিকভাবে জাপানের খুচরা খাত মূল্যস্ফীতি দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজনযোগ্যতা দেখিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে ক্রমবর্ধমান ব্যয় হস্তান্তর করতে সফল হয়েছে। তবে এ মূল্য সমন্বয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো দেখা বাকি।










