মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত আছে। গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভোজ্যতেলটির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়ে যায়। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে পাম অয়েল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই পণ্যটির দাম বাড়ছে। এদিকে পণ্যবাহী কার্গোর তথ্য বলছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে পাম অয়েল রফতনি বেড়ে যায়। এটিও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ পাম অয়েলের জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিমূল্য দশমিক ৬১ শতাংশ বা ৩০ রিঙ্গিত বেড়েছে। অধিবেশনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত (১ হাজার ১৯২ ডলার ৩৪ সেন্ট)।

মুম্বাইভিত্তিক ভোজ্যতেলের ব্রোকার সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিল কুমার বাগানি বলেন, চাইনিজ ভোজ্যতেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য ঊর্ধ্বমুখী। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) রাতারাতি বেড়েছে সয়াবিন তেলের দামও। প্রতিদ্বন্দ্বী তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণেই মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম বাড়ছে।

পণ্যবাহী কার্গোর তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসজিএস জানায়, ১-১০ নভেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ান পাম অয়েল রফতানি আগের মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৩ টনে।

কেনাঙ্গা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ইকুইটি অ্যানালিস্ট আদ্রিয়ান কক এক নোটে বলেন, নভেম্বরে পাম অয়েল উৎপাদন কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। কিছু কিছু পাম অয়েল উৎপাদক অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে গাছে ফল আসার পরিমাণ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন।

কেনাঙ্গা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় নভেম্বরে পাম অয়েল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ লাখ ৬০ হাজার টনে। অন্যদিকে উৎপাদন কমার পাশাপাশি রফতানি বৃদ্ধি পেলে কমে যাবে মজুদ। নভেম্বরে পাম অয়েলের মজুদ ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টনে নামতে পারে।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের তথ্য বলছে, অক্টোবরে উৎপাদন বেড়েছিল। কিন্তু ওই মাসে রফতানি ছিল নিম্নমুখী। এ কারণে সে সময় পাম অয়েলের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।

সিজিএস-সিআইএমবি রিসার্চের প্লান্টেশন রিসার্চ বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান আইভি এনজি এক নোটে বলেন, আমাদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, নভেম্বরে পাম অয়েলের দাম ৪-৫ হাজার রিঙ্গিতেই অবস্থান করবে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাম অয়েলের উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এখনো কাটেনি।