ইউরো অঞ্চলে খুচরা বিক্রি নিম্নমুখী রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১৯ দেশের অঞ্চলটির বিক্রি এক বছর আগের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যদিও মাসভিত্তিক হিসাবে বিক্রি দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে বছরওয়ারি খুচরা বিক্রিতে সংকোচন আশঙ্কার তুলনায় কম। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

ইউরোস্ট্যাট আগস্টের খুচরা বিক্রির প্রাথমিক পরিসংখ্যান সংশোধন করেছিল। বছরওয়ারি ২ শতাংশ সংকোচনের কথা বললেও পরে তা ১ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

খুচরা বিক্রিকে ভোক্তা চাহিদার বড় সূচক হিসেবে দেখা হয়। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে আগামী মাসগুলোয় ইউরো অঞ্চল অর্থনৈতিক মন্দায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে ইউরো অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের প্রান্তিকের তুলনায় মাত্র দশমিক ২ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। জিডিপি তীব্র মন্থর হলেও সেটি ইতিবাচক পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে।

এদিকে সেপ্টেম্বরে খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি মূলত অনলাইনের মাধ্যমে চালিত হয়েছিল। আগস্টে খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের পর সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। আগস্টে ছুটির মৌসুমের ভ্রমণ বাড়ায় পেট্রলের বিক্রি ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়লেও সেপ্টেম্বরে দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে।

এদিকে অঞ্চলটিতে মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ দেশের অঞ্চলটিতে সেপ্টেম্বরেও প্রাথমিকভাবে মূল্যস্ফীতি দুই অংকের ঘরে পৌঁছার কথা বলা হলেও পরে সেটি সংশোধন করে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে নামানো হয়। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ঠেলে দেয়া গত মাসের মূল্যস্ফীতি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অক্টোবরে সিপিআই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এটি ১৯৯৭ সালে রেকর্ড শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। এরই মধ্যে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে লাগাম টেনেছে। এতে ইউরোপকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যয়বহুল চালানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে জাহাজে আসা এ গ্যাস অঞ্চলটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঘর গরম রাখার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তরলীকৃত এ গ্যাস শীতের জন্য ইউরোপের মজুদ পূরণ করতে সফল হলেও কিছু শিল্পপণ্য যেমন ইস্পাত ও সারকে ব্যয়বহুল কিংবা অলাভজনক করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি ও ইউটিলিটিতে অতিরিক্ত জ্বালানি বিল এবং খাদ্যের মতো মৌলিক জিনিসগুলো আরো ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ব্যয় করার ক্ষমতা কমে গিয়েছে। স্বল্পমেয়াদি কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমলেও আগামী মাসগুলোয় উচ্চ স্তরে থেকে যাবে। এ পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনীতিতে শীতকালীন মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।