বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চা রফতানিকারক দেশ শ্রীলংকা। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটির চা রফতানির পরিমাণ বেড়েছে। মূলত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানিতে প্রবৃদ্ধি এসেছে। শ্রীলংকার টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শ্রীলংকা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধানত মোড়কজাত, টি ব্যাগ ও বাল্ক টি এ তিন ধরনের চা রফতানি হয়। তিন ক্যাটাগরিতেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে। জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত দেশটি সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৬২ লাখ কেজি চা রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৮৪ লাখ ৬০ হাজার কেজি। ওই সময় রফতানি করা হয় ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চা রফতানি করে দেশটি ৮ হাজার ১২৭ কোটি রুপি আয় করতে সক্ষম হয়। এর আগের বছর এ খাত থেকে আয় এসেছিল ৬ হাজার ৪৩৭ কোটি রুপি। সে হিসাবে আয় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি রুপি।
এদিকে প্রথম চার মাসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি এলেও এপ্রিলে শ্রীলংকার চা রফতানির পরিমাণ কমেছে বলে জানায় দেশটির টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এপ্রিলে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার কেজি চা রফতানি করে শ্রীলংকা। গত বছরের একই মাসে দেশটি ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা রফতানি করেছিল। অর্থাৎ মাসভিত্তিক হিসাবে রফতানি কমেছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার কেজি।
রফতানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাল্ক টির রফতানি তুলনামূলকভাবে কমেছে। তবে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাড়তির দিকে ছিল মোড়কজাত চা ও টি ব্যাগ রফতানি। এপ্রিলে চা রফতানি থেকে আয় এসেছে ১ হাজার ৫৬৪ কোটি রুপি। গত বছরের একই মাসে আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫১৩ কোটি রুপি। মাসভিত্তিক হিসাবে রফতানি আয় বেড়েছে ৫১ কোটি রুপি।
এদিকে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শ্রীলংকা থেকে চা আমদানিতে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে তুরস্ক। দেশটি শ্রীলংকা থেকে সর্বাধিক সিলন চা আমদানি করে থাকে। এর পরই যথাক্রমে রয়েছে ইরাক ও রাশিয়া। শ্রীলংকা থেকে চা আমদানিতে চতুর্থ শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক্ষেত্রে আমদানি কমিয়ে দেয়ায় চতুর্থ থেকে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে ইরান। এর বাইরে আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আমদানিকারক দেশ হলো চীন, লিবিয়া, আজারবাইজান ও সিরিয়া। এক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় চীন শ্রীলংকা থেকে চা আমদানি ৬৯ শতাংশ বাড়িয়েছে।










