ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত। অস্থিতিশীল রয়ে গিয়েছে জ্বালানির বাজারও। ফলে আমদানিতে আরো বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে জাপানকে। রেকর্ড ভেঙে চলেছে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি। এ নিয়ে অক্টোবরে টানা ১৫তম মাসের মতো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অথনীতির আমদানি ও রফতানির ব্যবধান ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গতকাল প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয় এবং দুর্বল ইয়েনের কারণে গত মাসে আমদানি ও রফতানি উভয়ই রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ফলে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতিও। এটি দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চিত্র তুলে ধরেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, অক্টোবরে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি ইয়েনে (১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। যেকোনো অক্টোবরের জন্য এ ঘাটতি ১৯৭৯ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। রফতানিতে দৃঢ় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতির অংক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসে দেশটির রফতানি এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ কোটি ইয়েনে (৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার)। রফতানি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করা পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল যানবাহন, চিকিৎসা পণ্য ও বিদ্যুচ্চালিত যন্ত্রপাতি।
এ সময়ে জাপানের আমদানিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত মাসে দেশটির আমদানি ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১১ লাখ কোটি ইয়েনে (৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার) উন্নীত হয়। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই টোকিও জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে বেড়ে গিয়েছে দেশটির আমদানি ব্যয়।
উৎপাদনে বাধা এবং মহামারী-সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে জাপানের বাণিজ্য ভারসাম্য গত কয়েক বছরে ওঠানামা করেছে। ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়নও আমদানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। এক বছর আগেও ডলারপ্রতি প্রায় ১১০ ইয়েনে বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে এ হার ১৫০ ইয়েনের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল। পরে চলতি সপ্তাহে প্রতি ডলার ১৪০ ইয়েনে লেনদেন হচ্ছে।
দেশভেদে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোয় জাপানি পণ্যের রফতানি বেড়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দেশটির রফতানি অনেক বেড়েছে। আবার এ দেশগুলো থেকে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আমদানিও বেড়েছে। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশটির আমদানি ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই অস্থিতিশীল রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর হওয়ায় টোকিওকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
এদিকে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন টয়োটা ও নিনতেনদোর মতো জাপানের বড় রফতানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। তবে এবারের পরিস্থিতিটা একেবারেই ভিন্ন। যন্ত্রাংশ, জ্বালানি, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্যের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে শক্তিশালী করতে ব্যাংক অব জাপান রেকর্ড নিম্ন সুদহার নীতি অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভ আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়ানোর কারণে ডলারের বিপরীতে বিশ্বের বেশির ভাগ মুদ্রার বিনিময় হার নিম্নমুখী রয়েছে।
তবে সস্তা ইয়েন দেশটির পর্যটন খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাজস্বের অন্যতম প্রধান এ খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।










