সঞ্চালন লাইনসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় অংকের বিদেশী ঋণ নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এসব বিদেশী ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কোম্পানিটি। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ ও চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ কারণে বড় লোকসান গুনতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মাসে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পিজিসিবির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকলে সামনে কোম্পানিটির লোকসান আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন এর কর্মকর্তারা।
পিজিসিবির সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি বিদেশী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ২৭৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা আগের আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৫ হাজার ২৮৭ কোটি ৪ লাখ টাকা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পিজিসিবির দীর্ঘমেয়াদি বিদেশী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ১ হাজার ২৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আর চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ৩৬০ কোটি ১২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে গত ১৫ মাসে পিজিসিবির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে পিজিসিবির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটির ১২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় কমে ১০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৭৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চলতি ২০২৩-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় আরো কমে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে পিজিসিবির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ১০১ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ১০৪ কোটি ২ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল।
জানতে চাইলে পিজিসিবির কোম্পানি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমাদের বড় অংকের লোকসান গুনতে হয়েছে। নিজেদের আয় থেকেই এ লোকসান বহন করা হয়েছে। লোকসান হওয়ার কারণে সংরক্ষিত আয় থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হয়েছে এবং এতে সংরক্ষিত আয়ও কমে গেছে। সামনের বছরও যদি টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকে তাহলে কোম্পানির লোকসান আরো বাড়বে।’










