সিঙ্গাপুরে বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। দেশটির আবাসন বিষয়ক সংস্থা হাটনসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রায় ৭৩টি নন-ল্যান্ডিং বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে চীনা বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় চলতি বছরে বাজার পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিজনেস টাইমস।

সিঙ্গাপুরে ২০২২ সালে বিলাসবহুল নন-ল্যান্ডিং মার্কেটে মোট বিক্রি হয়েছে ৩৫৯টি বাড়ি, যা ২০২১ সালের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ কম। খাতটিতে এ সময়ে বিনিয়োগ হয়েছে ৩২০ কোটি ডলার, যা ২৮ শতাংশ কম। অর্থমূল্য হিসাবে ২০২২ সালে শীর্ষ তিনটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম (বিক্রি হওয়া বাসা) প্রকল্প ছিল লেস মাইসন নাসিম, টমলিনসন হাইটস ও লে ন্যুভেল আরডমোর। এসব প্রকল্পের বাড়িগুলোর প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৭ ডলার, ৪ হাজার ৬৪৫ ডলার ও ৫ হাজার ৮০০ ডলার।

গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গুড ক্লাস বাংলো (জিসিবি) এলাকার মাত্র ছয়টি বাংলো বিক্রি হয়েছে। যার মোট মূল্য ২১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ কম। বছরওয়ারি একই সময়ের তুলনায় এর হার ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল বাড়ি কেনায় বিদেশীদের মধ্যে এগিয়ে আছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা। হাটনসের বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ক্রেতাদের বিলাসবহুল বাসা কেনা কমেছে। অন্যান্য সময় জিসিবি এলাকায় বাসা পাওয়া দুঃসাধ্য হলেও এবার চিত্র উল্টো। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিক্রেতাদের উচ্চদাম হাকানোর কারণেও চতুর্থ প্রান্তিকে জিসিবি এলাকার বাসা বিক্রি কমতে পারে।

হাটনসের বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ২০২২ সালে মোট ৪৮টি জিসিবি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২১ সালের লেনদেনের অর্ধেক। এ সময়ে মোট বিক্রি হয়েছে ১৪০ কোটি ডলার, যা ২০২১ সালের লেনদেনের তুলনায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ নিম্নমুখী। ২০২২ সালে বিক্রি হওয়া চুক্তির শীর্ষে ছিল চ্যানসারি লেনের একটি জিসিবি। ফিলিপাইনের বিলিয়নেয়ার অ্যান্ড্রু ট্যানের পুত্রবধূ কেলসি চ্যাং ট্যান বাংলোটি ৬ কোটি ৬১ লাখ ডলারে কিনেছিলেন। এটি বুকিট টুঙ্গাল জিসিবি এলাকায় সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া বাংলো।

সিঙ্গাপুরের রিয়েল এস্টেট ইনফরমেশন সিস্টেমের (রিয়ালিস) তথ্যমতে, ২০২২ সালে ডালভি এস্টেট ও চতুর্থ-ষষ্ঠ এভিনিউয়ের একটি জিসিবি থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ভাড়া আদায় হয়েছে। এ সময়ে জিসিবির ভাড়া বেশি হওয়ায় ভাড়ার পরিমাণ কমেছে। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে বিলাসবহুল বাড়ি ক্রয় কমা সত্ত্বেও চীনা বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় চলতি বছর বাজার পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছে খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সেই বছর হতে পারে, যখন বিলাসবহুল বাজারে সুপার ধনী চীনাদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে আরো উচ্চপর্যায়ের চুক্তি দেখা যাবে। জানুয়ারিতে চীনা ক্রেতাদের অনুসন্ধান ও ক্রয় বৃদ্ধির চিত্র অবশ্য সেটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।