গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তেলবহির্ভূত খাতে আয় ২ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন দিরহাম বা ৬০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি ও হাইড্রোকার্বন নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, অর্থ ও পরিষেবা খাতে মনোযোগ বৃদ্ধিতে দেশটির তেলবহির্ভূত আয় বেড়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

২০২২ সালে তেলবহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্য হয়েছে ৬০ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। দেশটির তেলবহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্য অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে জানান ইউএইর বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়কমন্ত্রী ড. থানি আল জিয়ুদি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের জানুয়ারি-ডিসেম্বরে তাদের তেলবহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ২ ট্রিলিয়ন দিরহাম ছাড়াল। ২০২১ সালের তুলনায় দেশটির তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ছিল ইউএইর শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার। তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে ২৬ হাজার ৪৫ কোটি দিরহাম। ইউএইর অন্যান্য শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার যথাক্রমে ভারত (১৮ হাজার ৯০ কোটি দিরহাম), সৌদি আরব (১৩ হাজার ৫২০ কোটি দিরহাম) ও যুক্তরাষ্ট্র (১১ হাজার কোটি দিরহাম)।

গত বছর ইউএইর তেলবহির্ভূত বাণিজ্যে রফতানির হিস্যা ছিল ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে যে হিস্যা ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৫ সালে আমদানির হিস্যা যেখানে ছিল ৬১ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ।

ইউএইর মোট রফতানি মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ ও ২০১৯ সালে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৬ হাজার ৫৫০ কোটি ও ২৪ হাজার ১০ কোটি দিরহাম। 

ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, গত বছর ইউএইর অর্থনীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। করোনার অভিঘাতে ২০২১ সালে ইউএইর প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্কলন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ সম্প্রসারিত হতে পারে উপসাগরীয় অর্থনীতিটি।