পেট্রল ও ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। এতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বেড়ে যাবে ডিজেলের দাম। জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে রফতানি নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। খবর আনাদোলু নিউজ।
রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী। দেশটি প্রতিদিন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল ডিজেল এবং এক লাখ ব্যারেল পেট্রল রফতানি করে। গত বছর মস্কো ডিজেল রফতানি করেছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। আর পেট্রল রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৮ লাখ টন।
বিশ্ববাজারে রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তুলনায় কম মাত্রায় পেট্রল ও ডিজেল রফতানি করে। তবে চলমান সরবরাহ উদ্বেগের মধ্যেই এবং শীতকালের আগেই রফতানি কমিয়ে দেয়ায় বাজারে উর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ কমে গেলে তার প্রভাব পড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামেও। পেট্রল-ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করার আগে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ বেন্টের মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৭০ সেন্ট। রাশিয়ার রফতানি নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর ব্রেন্টের দাম রাতারাতি ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। ব্যারেলপ্রতি বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৯৪ ডলার ৫০ সেন্ট।
অন্যদিকে বিপরীত অবস্থা দেখা গেছে রাশিয়ার বাজারে। রফতানি নিষিদ্ধের খবরে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ৫ শতাংশ কমে গেছে। রুশ পেট্রল ও ডিজেলের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় দেশটির পরিবহন সেক্টরে। এছাড়া কৃষি এবং শিল্প খাতেও জ্বালানি দুটির ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে গ্যাজপ্রম নেফট, ট্যাটনেফট এবং সুরগুটনেফটগ্যাসসহ রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি তেল করপোরেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে ডিজেল ও পেট্রল রফতানি থেকে আয় করে থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ‘পরিশোধনাগারগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে ডিস্টিলেটের (মোটর বা ট্রাক্টরের জ্বালানি) চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে ওপেক প্লাস জোটের চলমান সরবরাহ কমানো, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপীয় ও এশিয়ান পরিশোধনাগারগুলোয় কম উৎপাদনের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এসব কারণে চলতি বছর জ্বালানি তেলের উত্তোলন আগের বছরগুলোর তুলনায় যথেষ্ট কমে গেছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত মৌসুমের আগে ডিজেল জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী রাশিয়ার রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ব্যবধান আরো বাড়বে।
রাশিয়া একটি নিট রফতানিকারক, যার অর্থ এটি ব্যবহার করার চেয়ে বেশি পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদন করে; তা সত্ত্বেও এটা প্রত্যাশিত যে সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত অভ্যন্তরীণ বাজারে উদ্বৃত্তের দিকে নিয়ে যাবে, যার ফলে সিদ্ধান্তটি অস্থায়ী হতে হবে।
রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রথম উপমন্ত্রী পাভেল সোরোকিন বলেছেন, অনির্দিষ্ট কালের এ রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারে শিগগিরই বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এ পদক্ষেপের ফলে কৃষকদের চাহিদা সম্পূর্ণরূপে পূরণ হবে এবং তারা উপকৃত হবে।










