নিজেদের ‘একবিংশ শতাব্দী’র বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রথম অংশ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান। এর মধ্যে কাস্টমস ও সীমান্ত সম্পর্কিত প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণমূলক পদ্ধতি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
‘একবিংশ শতাব্দী’র বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া এটি একটি প্রাথমিক চুক্তি। অন্যান্য ব্যবসা খাত নিয়ে আলোচনা চলবে। সেসব খাতের মধ্যে কৃষি, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম ও পরিবেশবিষয়ক মূলনীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও নন-মার্কেট প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতিগুলো আলোচিত হবে বলে জানায় ইউএসটিআর।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্যাথরিন জানান, এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যকার সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে। তারা দেখিয়েছে যে নিজের নাগরিকদের বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারগুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা একত্রে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এসব আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। একটি জোরালো ও উন্নতমানের বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে আমরা আশাবাদী। এর মাধ্যমে আমরা একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব।’
এক বিবৃতিতে তাইওয়ান এ চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করে। অবশিষ্ট বিষয় নিয়ে এ বছরের মধ্যেই আলোচনা চূড়ান্ত করার ইচ্ছা আছে তাইওয়ানের।
এ চুক্তির ফলে পণ্যের শুল্কের কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এর প্রবক্তারা জানিয়েছেন চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এতে চীনের দাবি করা দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি আরো মসৃণ হবে। পাশাপাশি চীনের আরোপ করা অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবেলা করতে তাইওয়ানকে আরো বেশি সক্ষম করবে এ চুক্তি। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ান তার ওপর চীনের অধিকারের দাবিকে শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে এ চুক্তিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের সাম্প্রতিক যোগাযোগ দেশটিকে ক্ষুব্ধ করেছে। এর মধ্যে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে সভা করেছেন তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে একটি সভা নির্ধারিত হয়ে আছে। তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে এ চুক্তির ঘোষণা এল।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনা আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে।










