বিদায়ী বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার অতিধনীরা রিয়েল এস্টেট তথা আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। সিউলভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হানা ব্যাংকের একটি থিংকট্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন বলছে, আবাসন খাতে বিনিয়োগকে ঝুঁকি হিসেবে নিয়েছে দেশটির সম্পদশালীরা। এর পরিবর্তে নগদ সম্পদ ও আমানতের মতো নিরাপদ খাতে সম্পদের হিস্যা বাড়ানোর প্রবণতা দেখিয়েছে এসব ব্যক্তি। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
হানা ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্সের প্রণীত ২০২৩ সালের কোরিয়ান সম্পদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজের সবচেয়ে ধনী সদস্যরা ক্যাশ হোল্ডিংস ও সঞ্চয়ী হিসাবে জমা রেখেছে গড়ে ১ হাজার ৮৭০ কোটি কোরিয়ান ওন বা ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মোট সম্পদের গড় হিসাব অনুযায়ী যা ৫৮ শতাংশ। যেখানে ২০২১ সালে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। প্রতিবেদন বলছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রস্তুত থাকতেই নগদ অর্থ ধরে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ডিসেম্বরে ঊনিশোর্ধ্ব ২ হাজার ১৩ জন কোরিয়ানকে নিয়ে করা এক সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে সংস্থাটি।
জরিপে অংশ নেয়ার মধ্যে ৭৪৫ জনকে ধনী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এদের আর্থিক স্থাবর সম্পদ ১০০ কোটি ওনের বেশি। পাশাপাশি আর্থিক সম্পদ ১ হাজার কোটি ওন বা স্থাবর সম্পত্তি ৩ হাজার কোটি ওনের অধিক আছে, এমন ৭৪৫ জনকে অতিধনী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ২০২২ সালে এসব অতিধনীর মোট সম্পদের গড় পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৩০ কোটি ওন। এ সময়ে তাদের কাছে গড়ে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ওন মূল্যের আবাসন খাতসংশিষ্ট সম্পদ ছিল। ২০২১ সালের তুলনায় যা ৫০০ কোটি ওন কম। একই সময়ে তাদের মালিকানাধীন গড় আর্থিক সম্পদ ১ হাজার ৫০০ কোটি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬১০ কোটি ওনে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন বলছে, স্টক মার্কেটের শ্লথগতির ফলে অতিধনীরা আগের তুলনায় কম শেয়ার কিনেছে। ২০২২ সালে এ শ্রেণীর মালিকানায় মাত্র ৫২ কোটি ওন মূল্যের শেয়ার ছিল। আগের বছরের ১৬৮ কোটি ওনের তুলনায় যা বড় ধরনের পতন।
অতিধনীরা বছরে গড়ে ১২০ কোটি ওন আয় করে। এসব আয়ের ৩৯ শতাংশ আসে প্রপার্টি খাত থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাণিজ্যিক ও শ্রম আয়। জরিপের তথ্যানুযায়ী, তারা সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধ ব্যতিরেকে প্রতি বছর গড়ে ৪০ কোটি ওন ব্যয় করে। এছাড়া শ্রেণীটির ব্যয়ের সবচেয়ে বেশি ২৪ শতাংশ হয় ভ্রমণ বাবদ, এরপর শিক্ষা ও পোশাক কেনাকাটায়।
প্রতিবেদনে ১০০ কোটি ওনেরও অধিক আর্থিক সম্পত্তির মালিক কোরিয়ানদের জীবন নিয়েও আলোচনা করে। জরিপে অংশ নেয়া ধনী উত্তরদাতাদের ২০২২ সালে মোট সম্পদের গড় পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি ওন।
হাউজিং মার্কেটে ধীরগতি সত্ত্বেও প্রতিবেদনটি বলছে, আবাসন খাত এখনো ধনী কোরিয়ানদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ।
যদিও সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৮৪ শতাংশ ধনী ব্যক্তি চলতি বছর আবাসন খাতের বাজার আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করে। তবে ৩২ শতাংশ এখনো আবাসন খাতকে সেরা বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এছাড়া ৩৭ শতাংশ বলেছে, ২০২৫ সালে আবাসন বাজার পুনরুজ্জীবিত হবে। বাকি ২৬ ও ২৪ শতাংশ যথাক্রমে ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এবং ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিয়েছে।










