আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। সম্প্রতি প্রকাশিত অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯-পূর্বাস্থায় ফিরতে শুরু করেছে দেশটির অর্থনীতি। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের সংশোধিত জিডিপিতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ যুক্ত করা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
অর্থনীতির বর্তমান আকার ও এর গতিপ্রকৃতি এখনই জানা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক প্রান্তিকের সংশোধিত পরিসংখ্যান ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে প্রকাশিত হবে না। নতুন পূর্বাভাসে ২০২১ সালে জিডিপি বেড়েছে। অসংশোধিত জিডিপি কম থাকলেও সংশোধিত জিডিপি বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক গতি আগের চেয়েও বেশি। ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্থর গতিতে এগােচ্ছে বলে যে খবর চাউর হয়েছিল তা নিয়ে এখন সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এটিও হতে পারে, চলতি বছরের জিডিপি আগের পূর্বাভাসই সঠিক এবং অর্থনীতি মন্থর হয়ছে। ফলে এ বছরই অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়তে পারে।
সংশোধনীগুলো কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন ২০২০ ও ২০২১ সালের ব্যবসায়িক ব্যয়ের পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করেছে। ওএনএস বলেছে, সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলো জানাচ্ছে ২০২০ ও ২০২১ সালে উৎপাদন ব্যবসার ব্যয় আগের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি ছিল। এছাড়া কারখানা উৎপাদন ও খনিজ কোম্পানিগুলোও প্রাথমিক ধারণার চেয়ে বেশি মজুদ করেছে। এ দুই খাতকেই ওএনএস জিডিপির জন্য উজ্জ্বল দৃশ্য বলে অভিহিত করেছে।
২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের ওএনএসের আনুমানিক জিডিপি এখন সংশোধনের আগের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। সংশোধিত এ পরিসংখ্যানের অর্থ, ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রাক-মহামারী স্তরকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের তথ্য থেকে এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সময় বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্যের জিডিপি এখনো প্রাক-মহামারী পর্যায়ে ফিরে যেতে পারেনি।
মহামারী কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নতুন এ তথ্য যুক্তরাজ্যকে তার সমকক্ষ দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরোপের ফ্রান্স ও ইতালির চেয়েও দ্রুত কভিড-১৯-পূর্বাবস্থায় ফিরেছে দেশটি। তবে ওএনএস বলছে, অনান্য দেশের তথ্যও সংশোধন হতে পারে এবং যুক্তরাজ্যের মতো তাদের পরিসংখ্যানেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
যখন জাতীয় বাজেট প্রণয়নের জন্য পর্যাপ্ত তথ্যের প্রয়োজন ছিল। তখন জিডিপির এ পূর্বাভাস করা হয়। কিন্তু দুই বছর ধরে এ-জাতীয় তথ্যের ঘাটতি থাকায় বাজেট করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল বলে জানিয়েছে ওএনএস। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সমপর্যায়ের আন্তর্জাতিক দেশগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম প্রাথমিক জরিপকে আরো বিস্তারিত তথ্যসহ হালনাগাদ করেছি।
চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট সংশোধিত পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ধারণার চেয়ে ব্রিটিশ অর্থনীতি দ্রুত কভিড-১৯-পূর্বাবস্থায় ফিরে আসছে। যারা আমাদের অর্থনীতির পতন নিয়ে কথা বলেছিল, এ তথ্য তাদের ভুল প্রমাণ করেছে।’










