একই সঙ্গে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য সরকারকে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন ব্যবসায়ী নেতারা। পাশাপাশি কর নীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশন বাস্তবায়নসহ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরো উদ্যোগী হওয়ার ওপর জোর দেন তারা।

গতকাল সকালে এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এফবিসিসিআইয়ের সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ ব্যবসায়ী নেতা এসব কথা বলেন। প্রাক-বাজেট সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

তিনি জানান, সরকার দেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চায় মানে এই নয় আপনাদের ওপর করের বোঝা বাড়বে। বরং করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমেই রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক জানান, বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে উঠে আসা যৌক্তিক সুপারিশগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় উপস্থাপন করবে এফবিসিসিআই।’

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এমন একটি সময় হতে যাচ্ছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীল, জ্বালানির বাজার অস্থির এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য এবারের বাজেট প্রণয়ন হবে চ্যালেঞ্জিং। ব্যবসায়ী সমাজকে যৌক্তিক প্রস্তাবনা প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় বাজেটে সুদের হার যৌক্তিকীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিশ্চিতকরণ, রফতানি বহুমুখীকরণে অগ্রাধিকার খাতের উন্নয়ন, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ স্থাপন এবং অংশীজনভিত্তিক আইন প্রণয়ন প্রভৃতি প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের বাজেট এক্সপার্ট কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন এবং আমিনুর রহমানসহ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালকরা, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, এফবিসিসিআইয়ের কর্মকর্তারা।