বিশ্বের শীর্ষ কয়লা রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ও রফতানিতে উৎসাহিত করতে কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দিয়ে থাকে দেশটির সরকার। বিনিময়ে কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কয়লা রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে সরবরাহ করতে হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কমানোর পরিবর্তে বাড়াতে সহায়তা করছে বলে দাবি করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি কয়লা খাতে প্রণোদনা বন্ধে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লায় প্রণোদনা বন্ধের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে। এটি ২০৬০ সাল বা তারও আগে দেশটিকে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে একটি ইন্দোনেশিয়া। তাপীয় কয়লা রফতানিতে নেতৃস্থানীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশ। তথাকথিত অভ্যন্তরীণ মার্কেট অবলিগেশন পলিসি অনুযায়ী, দেশটির কয়লা উত্তোলকদের প্রতি বছর ২৫ শতাংশ কয়লা রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি পেরুসাহান লিস্ট্রিক নিগারায় সরবরাহ করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতি টন কয়লার সর্বোচ্চ দাম পড়ে ৭০ ডলার, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। এ পলিসির কারণে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা খাতে প্রণোদনা কার্বনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এটি স্থানীয় বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে প্রণোদনার কারণে বেসরকারি কোম্পানিগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি রূপান্তর থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে ইন্দোনেশিয়া।
বিশ্বব্যাংক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার হয়। ৬০ শতাংশ ব্যবহার হয় কয়লা।










