কভিড-১৯ মহামারীর সময় টিকা ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে কোটি কোটি ডলার আয় করেছিল বিশ্বের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি। বর্তমানে বিশ্ব মহামারী-পরবর্তী সময়ে রয়েছে। এ মুহূর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর বিক্রি কমবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য চাপ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্স।

পশ্চিমা ওষুধ প্রস্তুতকারক ফাইজার, বায়োএনটেক, মডার্না, জিলিয়াড সায়েন্সেস, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মেরেক অ্যান্ড কোং শুধু কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা এবং চিকিৎসাসেবা দিয়েই ১০ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকদের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এসব কোম্পানির বিক্রি তিন ভাগের দুই ভাগ কমে যাবে। কারণ এখন বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের উৎপাদন চলছে। তাছাড়া অনেক বেশি মাত্রায় টিকা দেয়ার কারণে জনগণের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেছে। এছাড়া প্রথম ধাপে সংক্রমণ হার বেশি হওয়ায় বর্তমানে এ ধরনের চিকিৎসাসেবার চাহিদা অনেক কমে আসবে।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় গভীরভাবে নেমে যাবে, যেটাকে বলা হয় প্যাটেন্ট ক্লিফ। এমন পরিস্থিতি বেশি ঘটে যখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধের বিশেষত্ব শেষ হয়ে যায় এবং সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা সামনে আসে। তার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বছরজুড়ে দোলাচলের কৌশল অবলম্বন করে।

মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক ড্যামিয়েন কনোভার বলেন, ‘‌যখন আপনি ঐতিহ্যগত ওষুধ ও টিকার উন্নয়ন সম্পর্কে চিন্তা করেন, সেই সঙ্গে এর বিক্রির দীর্ঘতা সম্পর্কে জানেন, তখন সেটা আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ করে রাজস্ব প্রবাহিত হলে তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নতুন চুক্তি করতে এবং অংশীদারের সঙ্গে যুক্ত হতেও সাহায্য করবে।’

বিএমওর পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ইভান সেইজারম্যান বলেন, ‘‌বদলে যাওয়া চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির উচিত দ্রুত নগদ অর্থ ব্যবহার করা। ‌ফাইজার তাদের পোর্টফোলিও বানানোর জন্য ১ হাজার ডলার ব্যবহার করেছে এবং আমার মনে হয় তাদের আরো বড় কিছু এবং আরো বেশি প্রভাব বিস্তারকারী কিছু করা উচিত।’ সেই সঙ্গে ৫৪০ কোটি ডলারে গ্লোবাল ব্লাড থেরাপিউটিক কিনে নেয়া এবং ১ হাজার ১১৬ কোটি ডলারে মাইগ্রেনের ওষুধ প্রস্তুতকারক বায়োহেভেন ফার্মাসিউটিক্যাল কিনে নেয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নভেলকরোনাভাইরাস মহামারীর সময় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সবচেয়ে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম ফাইজার। জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের সঙ্গে মিলে কভিড-১৯ প্রতিরোধী অ্যান্টিভাইরাল প্যাক্সলোভিড তৈরি করায় ২০২২ সালে তাদের মোট রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি। তবে প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালে তাদের রাজস্ব আয় কমে ২ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করছে পূর্বাভাসটি অনেক বেশি আশাবাদী।

আরেক টিকা তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার আশঙ্কা ২০২৩ সালের তাদের রাজস্ব আয় অনেক বেশি কমবে। প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র পণ্য আরএনএ কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা থেকে ২০২২ সালে ১ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা ২০২৩ সালে মডার্নার আয় ৭০০ কোটি ডলার কমে যাবে। গত বছর মেরেক অ্যান্ড কোং জানিয়েছিল, চিকিৎসাসেবা থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছিল ৫৭০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর সেটা ১০০ কোটি ডলার কমে যাবে। গত বছর মেরেকের পুরো বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।