বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চললেও এর প্রভাব পড়েনি প্রসাধনী খাতে। বাণিজ্যিক হিসেবে খাতটি বরং ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মানুষ আরো বেশি করে ঝুঁকে পড়ছে প্রসাধানী পণ্যের দিকে। ভালো থাকার প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে পণ্যগুলো। লিপস্টিক, ক্রিম ও ত্বকের যত্ন নেয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ভোক্তারা খাতটির ব্যয় কমাতে নারাজ।
ব্রেইনট্রাস্টের সিইও কেন্ড্রা ব্র্যাকেন-ফারগুসন বলেন, ‘দুনিয়ায় অনেক রকম বিভাজন আছে, রয়েছে সংঘাতও। তার পরও ভালো থাকতে হয়। হাসি ছড়িয়ে রাখতে হয় ঠোঁটে। চোখে পড়ে থাকতে হয় প্রসাধনী। এই প্রসাধনী নিজেকে প্রকাশ করার জন্য ভিন্ন একটা উপায় বাতলে দেয়। বিষয়টা জটিল নয়। ফলে দ্রুত মানুষের জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় অংশে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্নও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে ও চাপমুক্ত থাকার জন্য তেলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বস্তি ও বিশ্বাস ভোক্তাদের মধ্যে প্রসাধনী পণ্যের অন্য অবস্থান তৈরি করেছে। মানুষ পরিণত করেছে অভ্যাসের অংশ হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসাধনী বাজার ও পণ্য বিক্রি গত বছর ৩ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২১ সালের বিক্রয়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ শতাংশ। আরমানি, শার্লোট টিলবারি ও ফেন্টির মতো স্টোরগুলো জমজমাট ছিল। বছরওয়ারি বিক্রি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তালিকায় মেকআপ, ত্বকের যত্ন, সুগন্ধি, চুলের যত্ন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় উপাদানও রয়েছে।
প্রসাধনী খাতে প্রথমে রয়েছে আল্টা বিউটি। ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্রি বেড়েছে ১৮ শতাংশ। অর্থবছরের আয় অতিক্রম করেছে ১ হাজার কোটি ডলার। একই সময়ে আল্টা নতুন করে ৪৮টি দোকান খুলেছে। কোম্পানির মুখপাত্রের ভাষায়, ২০২৩ সালে বছরওয়ারি মানুষের যাতায়াত বেড়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রাহকদের আকর্ষণের জন্য এর মধ্যে আল্টা অনেক কিছু করেছে। একই কথা প্রযোজ্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। সব ধরনের বাজেটের মধ্যে পণ্য হাজির করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রাহকের সামর্থ্যের কথা বিবেচনায় সাজানো হয়েছে মূল্যতালিকা। যার দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে। পারফিউম ও কসমেটিকস সামগ্রী চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ১১ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির পরও সূচক ঊর্ধ্বমুখী। সরকারি তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। সংকুচিত হয়ে পড়েছে আসবাবপত্র, পরিধেয়, প্রযুক্তি ও অন্যান্য কেনাকাটার সামগ্রীর দাম। কিন্তু প্রসাধনী সামগ্রীর বিক্রয় সূচক যথেষ্ট বেশি। ২০০১ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও লিপস্টিকের চাহিদা কমেনি। তারপর থেকেই ‘লিপস্টিক ইনডেক্স’ বলে নতুন একটি পরিভাষা ব্যবহার করেন লিওনার্ড লাউডার। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী গ্রেট ডিপ্রেশন কিংবা আরো পরে ২০২০ সালের নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবেও দেখা গেছে একই বৈশিষ্ট্য। ২০২১ সালে বছরওয়ারি ব্যবহার বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলে মানুষ প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যয় করতে উৎসাহিত হয়। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকলেও বাধা মনে করে না। কারণ প্রসাধনী সামগ্রী তখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবেই গণ্য হয়। প্রসাধনী সামগ্রীর পেছনে খরচকে আদৌ বড় অংকের খরচ হিসেবে দেখা হয় না।










