থাইল্যান্ডের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অক্টোবরে সর্বকালের সর্বোচ্চে উঠেছে। আগামী মাসগুলোয়ও আমদানি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। দেশটি ক্রমাগত বাড়তে থাকা গ্যাস সংকট প্রতিহত করতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। মূলত গ্যাস উত্তোলন অধিক মাত্রা কমে যাওয়ায় দেশটির আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস।
বহুমুখী জটিলতার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উৎপাদনে নিম্নমুখিতা, কভিড-১৯-এর প্রভাব অন্যতম। থাইল্যান্ড থেকে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক শীর্ষ জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় তেল কোম্পানিগুলো মজুদ বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রও আবিষ্কার করা হয়নি দীর্ঘ সময় ধরে।
থাইল্যান্ডের জাতীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি পিটিটি বর্তমানে এলএনজি উৎপাদন নিয়ে নানামুখী জটিলতার মধ্যে রয়েছে। ফলে কোম্পানিটি দাম বাড়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি পরিমাণে এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।
পিটিটি ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি থাইল্যান্ডের প্রধান এলএনজি আমদানিকারক। প্রতিষ্ঠান দুটি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্গোযোগে এলএনজি সরবরাহের জন্য বেশ কয়েকটি দরপত্র আহ্বান করেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস বলছে, অক্টোবরে থাইল্যান্ড ৮ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় আমদানি ৫৫ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।
পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য বলছে, চলতি ও আগামী মাসেও আমদানির পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে থাইল্যান্ড ৫২ কোটি ২ লাখ ১৮ হাজার টন এলএনজি আমদানি করে।
থাইল্যান্ডে দেশীয় গ্যাস চাহিদার ৭০ শতাংশই আসে উত্তোলন থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এর মধ্যে কিছু গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ক্রয় করা হয়। কিছু গ্যাস আসে সমুদ্রপথে এলএনজি আকারে। সরকারি তথ্য বলছে, থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রে ইরওয়ান। গত বছর দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের ৩৬ শতাংশই এসেছে এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে। মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উত্তোলন কমে ৮০ কোটি ১০ লাখ ঘনফুটে নেমে যায়। আগস্টে আরো কমে ৭৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। উত্তোলন হ্রাসের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।










