নিম্নমুখী রয়েছে জাপানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। আগের মাসে রেকর্ড পরিমাণ হ্রাসের পর অক্টোবরেও কমেছে দেশটির রিজার্ভ। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ পরিস্থিতি দেশটির ইয়েন ক্রয় এবং ডলার বিক্রির পদক্ষেপের চিত্র প্রতিফলিত করছে। খবর রয়টার্স।
অন্য আরেকটি তথ্য বলছে, কয়েক মাস ধরেই ডলারের বিপরীতে নিম্নমুখী রয়েছে ইয়েনের দাম। এ অবস্থায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে চাইছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। দেশটি গত ২২ সেপ্টেম্বর ডলার বিক্রি ও ইয়েন কেনা শুরু করে। এর মাধ্যমে ছোট আকারে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ শুরু করে দেশটি। সেটাই ছিল ১৯৯৮ সালের পর জাপানের মুদ্রাকে সমর্থন দেয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ। বিনিয়োগকারীরা এখন জাপানের বৈদেশিক সম্পদের বড় ক্ষেত্র ও হস্তক্ষেপের ইতিহাস যাচাই-বাছাই করছে যেন জাপান বর্তমানের মুদ্রাবাজারে কী পরিমাণ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তা বোঝা যায়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো টুঁশব্দটি করছে না।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজের জাপান মার্কেটস রিসার্চের প্রধান তোহরু সাসাকি বলেন, যদি ডলারের মূল্যমান আরো দ্রুতগতিতে ১৫২ ইয়েন ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় চলে যায়, তাহলে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করলেও আমি অবাক হব না। কিন্তু আমার মনে হয় না জাপান বড় আকারের হস্তক্ষেপ অভিযান পরিচালনা করবে।
জাপানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। অক্টোবরের শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি ডলারে। তার পরও তা এখন চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এবারো ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার কমে যাওয়ায় তা দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ড কমতি হলো।
সম্পদের ধরনের ভিত্তিতে ধারণা করা হয় বিদেশী বন্ড রিজার্ভের ৪-৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে রিজার্ভে সবচেয়ে বেশি কমেছে বিদেশী বন্ডের দাম। একইভাবে কমতে দেখা যায় অক্টোবরেও ৯৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে আরেকটি তথ্যে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কর্তৃপক্ষ মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেনি। সেই মাসে ইয়েনকে সমর্থন জোগানোর জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার ইয়েন খরচ করা হয়। বিগত ৩২ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম অনেক কমে যাওয়ায় গত মাসে ৬ কোটি ৩৫ লাখ ইয়েন খরচ করেছে দেশটি।










