জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক নিয়ে গঠিত জোট ওপেক প্লাস এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
সোমবার জোটটির জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটি জানায়, চলতি বছর জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে।
ওপেক প্লাসের দুটি বিশ্বস্ত সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।
ওপেক প্লাস ও জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে।
বছরের শেষ প্রান্তিকে চাহিদা বেড়ে করোনা-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
ওপেক প্লাসের মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন আগেই বৈঠকে বসে জোটটির জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি।
এতে বাজার পরিস্থিতির অগ্রগতি, জ্বালানি তেলের মজুদ, জোটের নীতি মেনে চলার হারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ওপেক জানায়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম ত্বরান্বিত হচ্ছে।
পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি পণ্যের চাহিদাও।
মূলত এসব কারণেই চলতি বছরের শেষ নাগাদ জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা আকাশচুম্বী হবে।
ওপেকের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বেড়ে দৈনিক ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছবে।
ভারতে কভিড-১৯ সংকট তীব্র আকার ধারণ করা সত্ত্বেও সংগঠনটি এপ্রিলে নিরূপণ করা চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে।
ওপেক প্লাসের প্রতিনিধিরা ও বেশ কয়েকজন জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষক গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গকে জানান, বাজার চাঙ্গা করতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমানোর নীতি গ্রহণ করেছিল ওপেক প্লাস।
তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এ নীতি থেকে সরে এসেছে জোটটি।
গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক প্লাস।
জোটের অনুষ্ঠেয় জয়েন্ট মিনিস্ট্রিয়াল মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিতে আলোচনা করা হবে।
ওপেক প্লাস এ বছরের মে ও জুনে দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
জুলাইয়ে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব জোটের বাইরে এককভাবে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
জোটের শীর্ষ উত্তোলক দেশটি এরই মধ্যে উত্তোলন বাড়াতে শুরু করেছে।
মে ও জুনে দৈনিক আড়াই লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
সব মিলিয়ে জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে ওপেক প্লাস।
এপ্রিলে গ্রহণ করা উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাস জোটভুক্ত দেশগুলোকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরালো হচ্ছে।
পাশাপাশি মহামারী পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে গতি ফিরছে।
মানুষের মাঝে আবারো বাড়তে শুরু করেছে ভ্রমণপ্রবণতা।
জোটের নেতারা মনে করছেন, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাড়তি সরবরাহ বাজারকে আরো চাঙ্গা করে তুলবে।
এদিকে গত মাসে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়লেও তা এপ্রিলে নেয়া পরিকল্পনার অনুপাতে কম।
জোটটির একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে মাসে ওপেকভুক্ত ১৩টি দেশের জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ২ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল, যা এপ্রিলের তুলনায় দৈনিক ২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বেশি।
এর মধ্যে জোটের বড় উত্তোলক দেশ সৌদি আরব ও ইরাক সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে।
তবে নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও ইরান বাজারে আশানুরূপ জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারেনি।










