দেশের ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে ‘স্যামসন ফার্মা ইনকরপোরেশন’ নামে একটি কোম্পানি খুলতে যাচ্ছে। এ কোম্পানির মাধ্যমে দেশটির বাজারে ওষুধ বিপণন ও বিতরণ আরো জোরদার করতে চায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। সামনের বছরের এপ্রিলের মধ্যে নতুন এ কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ ‘স্যামসন ফার্মা ইনকপোরেশনে’ ১০ লাখ ডলার ইকুইটি বিনিয়োগ করার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। এ কোম্পানিতে মোট ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ অর্থ ঋণের মাধ্যমে ও বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ বিদ্যমান পণ্যের বাড়তি চাহিদা মেটাতে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক উত্পাদনের একটি চুক্তিও অনুমোদন করেছে।

ফিলিপাইনে কোম্পানি খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান মো. কবীর রেজা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফিলিপাইন আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজার। দেশটিতে বর্তমানে আমরা যে পরিমাণ ওষুধ রফতানি করছি সেটি আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দেশটিতে নিবন্ধিত কোম্পানি থাকলে ব্যবসা সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্ন করা যায়। এ কারণে আমরা নতুন কোম্পানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে ফিলিপাইনের বাজারে ওষুধ রফতানির পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করছি।’

চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের আয় হয়েছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ হাজার ৮৮১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৫৬৪ কোটি ৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৫০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩৬ টাকা ৭৯ পয়সায়। 

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ হাজার ৮১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৪১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪৮ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সম্বন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২৯ টাকা ৯৫ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১১৮ টাকা ৬৮ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য রেকর্ড পরিমাণ ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। রেকর্ড ডেট ছিল ১৬ নভেম্বর।

২০২১-২২ হিসাব বছরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৭ টাকা ৯৯ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ১৫ টাকা ৭ পয়সা।