জাপানের শিল্পোৎপাদন নিম্নমুখী হয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির শিল্পোৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে চার মাস পর নিম্নমুখী হলো খাতটি। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিজুড়ে ধীরগতি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খবর কিয়োদো নিউজ।
জাপান সরকার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ১০০ পয়েন্টের ভিত্তির বিপরীতে সেপ্টেম্বরে কারখানা ও খনি খাতের সামঞ্জস্যপূর্ণ সূচক ৯৮ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমেছে। এর আগে আগস্টে দেশটির শিল্পোৎপাদন ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল।
অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরিপের আওতায় ১৫টি শিল্পের মধ্যে ১১টির উৎপাদন কমেছে এবং বাকিগুলোর বেড়েছে। খাত অনুসারে, গাড়ি শিল্পের উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। মোটরবাইক ও যানবাহনের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি খাতজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো অটো শিল্পের উৎপাদন কমেছে।
তথ্য অনুযায়ী, অজৈব ও জৈব রাসায়নিক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং যন্ত্রপাতির উৎপাদন ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। ক্রমবর্ধমান দামের কারণে যন্ত্রাংশ ঘাটতি খাতটির উৎপাদন কমাতে ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া চারটি শিল্পের মধ্যে অজৈব, জৈব রাসায়নিক ও ওষুধের বাইরে থাকা রাসায়নিক খাতটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাসায়নিক খাতটির উৎপাদন আগস্টের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরে শিল্প খাতের রফতানি সূচক ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমেছে। চার মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো খাতটি নিম্নমুখী। যদিও শিল্প খাতের মজুদ ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। খাতটির মজুদ টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী।
এদিকে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিপের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে অক্টোবরে শিল্পোৎপাদন দশমিক ৪ শতাংশ কমে যাবে এবং নভেম্বরে দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে।
দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী অর্থনীতি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহে ভবিষ্যতে কভিডের সংক্রমণের সম্ভাব্য বৃদ্ধির প্রভাবের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখতে চাই। বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। কারণ উচ্চমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর কারণে চাহিদা ধীর হয়ে পড়ছে।










