আগস্টে চীনের আকরিক লোহা আমদানি আগের মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির শুল্ক বিভাগ গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ইস্পাত উৎপাদন কারখানাগুলোয় ক্রমবর্ধমান চাহিদা আমদানি বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

তথ্য বলছে, আগামী কয়েক মাসজুড়ে চীনে অবকাঠামো নির্মাণের হার ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কারখানাগুলো ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ইস্পাত তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কারখানাগুলোয় আকরিক লোহার চাহিদা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহা ব্যবহারকারী। আগস্টে দেশটি বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এ তথ্য জানিয়েছে।

জুলাইয়ে দেশটি আমদানি করেছিল ৯ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

জুলাইয়ে চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর তাংসেনে বাতাসের গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সাময়িকভাবে ব্লাস ফার্নেসে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। আগস্টের শুরুতে ফের উৎপাদন ‍শুরু হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে ইস্পাত উৎপাদন কমানোর কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে দেশটির কারখানাগুলো আগস্টজুড়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। কাঁচামালের বাড়তি দামের কারণে ইস্পাত উৎপাদনে মুনাফা মার্জিন কমে গেলেও কারখানাগুলো আয়ের প্রবাহ ধরে রাখতে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।

শুল্ক বিভাগ জানায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীন সব মিলিয়ে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে আগস্টে চীনের ইস্পাত পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ৮০ হাজার টনে। এ বছরের জুলাইয়ে রফতানি করা হয় ৭৩ লাখ ১০ হাজার টন। সে হিসাবে রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত দেশটি ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার টন ইস্পাত পণ্য রফতানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

চীন গত মাসে ৬ লাখ ৪০ হাজার টন ইস্পাত পণ্য আমদানি করে। ২০২২ সালের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯০ হাজার টন।