দেশীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার প্রভাবে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি বেড়েছে অন্তত ২ হাজার টন। এ বন্দরে দিয়ে নাজির, মিনিকেট, স্বর্ণা, রত্না ও জামাইবাবু জাতের চাল আমদানি হচ্ছে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে ৫০ হাজার ৩১৫ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৮ হাজার ৩১৩ টন, আগস্টে ১১ হাজার ১৭৬ এবং সেপ্টেম্বরে ৩০ হাজার ৮২৩ টন আমদানি করা হয়। এসব চালের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৪৭ হাজার ৯৩৯ টন। আমদানীকৃত চালের মূল্য ছিল ১৬৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যেখান থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় ২ হাজার ৩৭৬ টন আমদানি বেড়েছে।

ভোমরা বন্দর দিয়ে চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনালি ট্রেডার্সের  ব্যবস্থাপক সুমন দে বলেন, দেশীয় বাজারে খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়ায় চাল আমদানিও বেড়েছে। গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে তার প্রতিষ্ঠানে চাল আমদানি বেড়েছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ। মাসে প্রায় ৫০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। গত অর্থবছরের একই সময় আমদানি হয়েছিল ৩০-৩৫ ট্রাক।

তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চিকন নাজির, মিনিকেট এবং মোটাজাতের স্বর্ণা ও রত্না জাতের চাল আমদানি করা হচ্ছে। আমদানীকৃত নাজির চাল দেশীয় বাজারে কেজিপ্রতি ৬৭ টাকা, মিনিকেট ৬৪-৬৫ এবং মোটা জাতের চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, আমদানীকৃত মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৬-৪৭ টাকা কেজি দরে। তাছাড়া মিনিকেট প্রতি কেজি ৬৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার আমীর নেয়ামুল হাসান জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চাল আমদানিতে রাজস্ব এসেছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় চাল আমদানি বেড়েছে ভোমরা বন্দর দিয়ে।