মহামারী-পরবর্তী বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের একটা বড় অংশই ছিল চীনা দর্শনার্থীরা। তবে ক্রমেই ভারতীয় পর্যটকদের বড় অংশের গন্তব্য হয়ে উঠেছে এ অঞ্চল। ধারণা করা হচ্ছে, অচিরেই চীনা পর্যটকদের জায়গা নিয়ে নিতে পারে ভারতীয়রা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। শিল্প বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইন্ডিগো ও থাই এয়ারওয়েজের মতো এয়ারলাইনস থেকে শুরু করে বিভিন্ন হোটেল-মোটলগুলোও। গত মাসে একটি সম্মেলনে উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক বিশ্লেষক ব্রেন্ডন সোবি বলেন, ‘বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আসতে যাচ্ছে ভারত থেকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া স্পষ্টতই খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প। কভিড-১৯ মহামারীর আগে এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্পটির অবদান ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের তথ্যানুসারে, পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন এ অঞ্চলের চার কোটির বেশি কর্মী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ ও পর্যটনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে চীনা দর্শনার্থীরা। এ অঞ্চলের চারটি দেশের সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের মে মাসে চীনা পর্যটকের সংখ্যা ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ কমেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে যদি ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ে, তবে এয়ারলাইনসগুলোর সক্ষমতা, আতিথেয়তা সুবিধা বৃদ্ধিসহ পর্যটন অপারেটরদের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের প্রাথমিক আভাস দেখা যাচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। মে মাসে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী দশকগুলোয় ভারতের বহির্মুখী পর্যটন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমেই তারা চীনের জায়গা নিয়ে নিতে পারে। যদিও ভারতে তুলনামূলকভাবে কম বিমানবন্দরের কারণে যা খানিকটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে মহামারী-পরবর্তী দশকে পযর্টনের শিল্পের অনন্য গল্প হয়ে উঠতে পারে ভারত।
থাইল্যান্ডের অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা চীনাদের তুলনায় এখনো কম। থাই সরকারের তথ্যানুসারে, ২০১৯ সালে চীনা ভ্রমণার্থীরা থাইল্যান্ডে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মার্কিন ডলার করে ব্যয় করেছে। ভারতীয়রা ব্যয় করেছে প্রায় ১৮০ মার্কিন ডলার। দুই দেশের পর্যটকই প্রায় এক সপ্তাহের জন্য সফর করেছে দেশটিতে।’
মে মাসে চীনের তুলনায় বেশি ভারতীয় পর্যটক সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করে। একই মাসে প্রায় ৬৩ হাজার ভারতীয় ইন্দোনেশিয়ায় গেছে, বিপরীতে চীনা দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ হাজার। থাই এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চই এমসিরি বলেন, ‘মহামারীর আগে চীনে সপ্তাহে ৪০টির মতো ফ্লাইট যেত, বর্তমানে যাচ্ছে মাত্র ১৪টি। বিপরীতে ভারতে সপ্তাহে ৭০টি ফ্লাইট যাচ্ছে।
এদিকে আঞ্চলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৫০০টি এয়ারবাস ন্যারোবডি জেট অর্ডার করেছে ভারতীয় বাজেট ক্যারিয়ার ইন্ডিগো। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয় ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যেকার রুটগুলোয় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ করছে তারা।










